পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়াছে। মিঃ গান্ধীর অভু্যদয়ে নিশ্চিতই তাহাদের লাভ হইয়াছে,—কেন না তিনি গজেরাটী এবং ঐ সব ব্যবসায়ীদেরই সবজাতি। তিনি তাহদের কংগ্রেসে যোগদানের সুবিধা করিয়া দিয়াছেন এবং দলের ফান্ডে বহন অর্থ দান করিয়া তাহারা নিজেদের স্থান সদঢ় করিয়া লইয়াছে। একবার যখন তাহারা আবিস্কার করিল যে, ধনীদের পক্ষে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা কঠিন, তখন তাহারা ক্রমশঃই অধিকতর ক্ষমতা হস্তগত করিতে লাগিল। কংগ্রেসের ভিতরে, তাহারা বিদেশী বজনের মলে শক্তি। তলাজাত বসাদির উপর ঐ বিদেশী বজন নীতির ফল সংরক্ষণ শকের মতই। গান্ধী-আরউইন চুক্তির পরেও যাহাতে ঐ বিদেশী বজনের অজুহাত থাকে, সেদিকে তাহারা বিশেষ দটি রাখিয়াছিল। “স্মরণ রাখিতে হইবে যে, গান্ধী-আরউইন চুক্তি ব্রিটিশ দ্রব্য পিকেটিং করা বন্ধ করিয়াছে, বিদেশী বজন আন্দোলন বন্ধ করে নাই। সম্ভবতঃ মিঃ গান্ধী বাজারে সব প্রকার পিকেটিং বন্ধ হইলে সন্তুষ্ট হইতেন, কেন না উহার ফলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এ বিষয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরসথ ব্যবসায়ীরা তাঁহার বিরদ্ধে ছিলেন এবং প্যাক্টের সতের বাহিরে তিনি যাইতে পারেন না। বোবে ক্লনিকল বোবাইয়ের কলওয়ালাদের মুখপত্র রাপে এ বিষয়ে মিঃ গান্ধীর বিরোধী। বাঙালী ও কলওয়ালাগণ “বাঙালী জাতীয়তাবাদীরা হাতে বোনা খন্দরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করিতে প্রস্তুত আছে, কিন্তু মাড়োয়ারী বা গজরাটী কলওয়ালা ও ব্যবসায়ীদের লাভের জন্য তাহারা বেশী দামী কাপড় কিনিতে রাজী নয়। বাংলার প্রধান শিল্প পাট; উহা প্রায় সমস্তই বিদেশে রপ্তানী হয় এবং কলিকাতার সকল জাতির ব্যবসায়ীরা দেখিতেছে যে, তাহারা ভারতের কামধেনু’। পশ্চিম ভারতের ব্যবসায়ীরা যে ভাবে ফেডারেটেড চেম্বার অব কমাস দখল করিয়াছে এবং গবৰ্ণমেণ্টের উপর নিজেদের মতামতের প্রভাব বিস্তার করিতেছে, তাহাতে এই ধারণা দঢ়তর হইয়াছে। করাচী ও বোম্বাইয়ের কয়েক জন পাশী বণিককে সাহায্য করিবার জন্য নতন লবণ শলক নীতির বারা বাংলার উপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পড়িবে। “বাংলার এই অবনতি এমন সম্পষ্ট যে, ভারতবাসীরা নিজেদের মধ্যেই ইহা লইয়া খব আলোচনা করিতেছে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে দোষ দিয়া থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যবিং ভদ্রলোক বেকারের সংখ্যা বধি করিয়াছে, তাহাতে সন্দেহ নাই। বর্তমান বাংলার পক্ষে ইহা একটা দলক্ষণ। বহল বৎসর হইল জমিদার শ্রেণী পল্লী হইতে সহরে চলিয়া আসিতেছে । এবং তাহাদের সন্তানদের সামান্য বেতনে কেরাণীগিরি করা ছাড়া আর কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নাই বলিয়া মনে হয়। ইহা একটা অদ্ভুত ব্যাধি যে, এই প্রদেশের ভদ্রলোক যুবকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নাই, এমন কি ধনীর ছেলেরাও সামান্য কেরাণীগিরি প্রভৃতি কাজ পাইলেই সন্তুষ্ট হয়; পক্ষান্তরে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের লোকেরা আসিয়া বাঙালীদের প্রত্যেক ব্যবসায় হইতে স্থানচ্যুত করিতেছে এবং যে সমস্ত কাজে শক্তি ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন, সে সমস্ত তাহারাই করিতেছে। শিক্ষাপ্রণালীর উপর সমস্ত দোষ চাপানো নিৰ্ব্বদ্ধতা;— বাঙালীর চরিত্রে এমন কিছ রটা আছে, যাহার ফলে অতীতের গৌরবে মসগাল হইয়া অকম"গ্য অবস্থায় কাল যাপন করিতেছে।”