পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যদি এই সমস্ত লোকের মাসিক আয় গড়ে ৫০ টাকা ধরা যায়, তাহা হইলে উহারা বিশ লক্ষ লোকে মাসে অন্ততঃপক্ষে ১০ কোটী টাকা উপাজন করিতেছে। অর্থাৎ বৎসরে প্রায় ১২০ কোটী টাকা বাংলাদেশ হইতে শোষিত হইতেছে (২৫)। আমি যতদর সম্ভব তথ্য বারা আমার কথা প্রমাণ করিতে চেষ্টা করিয়াছি। অবশ্য, সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না এবং আমার হিসাব কতকটা অনমান মাত্র, যদিও তাহার ভিত্তি সদঢ়। বিশেষজ্ঞেরা ষে সব হিসাব দিয়াছেন, তাহার বারা আমার অনুমান অনেক সময়ই সমথিত হয়। বাংলা হইতে কত টাকা বোম্বাই, রাজপুতানা, বিহার এবং যন্তপ্রদেশে বাহির হইয়া যাইতেছে, তৎসম্বন্ধে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য নির্ণয় করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু ষে হিসাব এখানে দেওয়া যাইতেছে, তাহা ধীর ভাবে বিবেচনা করিবার যোগ্য। সকলেই জানেন যে, মাড়োয়ারী এবং অন্যান্য সবচ্ছল অবস্থার হিন্দপথানীরা আটা, ডাল, ঘি খাইয়া থাকে, ঐ সব জিনিষ তাহারা বাংলার বাহির হইতে নিজেরাই আমদানী করে। কেবল উড়িয়ারা ভাত খায়। সতরাং আমরা বলিতে পারি যে—অবাঙালীরা যাহা উপাজন করে, তাহা তাহদের নিজেদের পকেটেই যায়। সুতরাং মাড়োয়ারী, ভাটিয়া বা পাঞ্জাবী যদিও কলিকাতায় থাকিয়াই অর্থ উপাজন করে, তব তাহদের অথে বাংলার সম্পদ বন্ধি হয় না, কিবা তাহারা বাংলার অধিবাসী হওয়াতে বাংলার কোন আর্থিক উন্নতি হয় না। (২৬) তাহারা কামসকাটকা বা টি-বাকটোর অধিবাসী হইলেও বাংলার বিশেষ কোন ক্ষতি হইত না। (২৫) এই সংখ্যা অনেকের নিকট অসম্ভব ও অবিশ্বাস্য মনে হইতে পারে। ইহার প্রমাণ স্বরপ বহল তথ্য আমার হাতে আছে। কলিকাতার নিকটবতী পাট কল সমহের এলাকায় যে সব ডাকঘর আছে, উহা হইতে ১৯২১ সালে ১ কোটী ৭৬ লক্ষ টাকার মনি অডার হইয়াছে – Indian Jute Mills Association, Report, 1930. একজন বিহার প্রবাসী পদস্থ বাঙালী আমাকে লিখিয়াছেন :–“বিহার ও অন্যান্য প্রদেশের বাঙালীদের সম্বন্ধে আপনি যে যত্ন লইতেছেন, সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। গত মাসে ছাপরা ডাকঘরেই বাংলা হইতে ১০ লক্ষ টাকা মনি অডার আসিয়াছে। ইহা এক সারণ জেলাতেই বাংলা হইতে আগত টাকার হিসাব। “বাংলা হইতে এখানে যে সব মনি অডার আসিয়াছে, তাহার তিন মাসের হিসাব দিতেছি— জানুয়ারী (১৯২৭) 鄧 @ 歌 總 學 會 টাকা ১১,৫৮,ooo ফেব্রুয়ারী ” 曾 尊 @ 發 聯 @ ” ১১,০২,৮oo মাচ yQ 發 聯 會 * * * " పి,రిa,ఏ0ఫి ஃ পক্ষান্তরে ছাপরা হইতে বাংলায় যদি বাঙালীকে দেওয়া হয় আমনি চারিদিক হইতে চীৎকার উঠে—বিহার বিহারীদের জন্য ” “বাংলার সম্পদ শোষণ” এই শীর্ষক প্রবন্ধে ১৯২৭ সালে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখিয়াছেন,— “১১২৬ সালে এক মাত্র কটক জেলাতেই বাংলা হইতে ৪ লক্ষ টাকার মনি অডার হইয়াছিল। এখানে বলা প্রয়োজন যে, উড়িয়ারা বাংলাদেশে রাধানি, চাকর, পলাবার এবং কুলী হিসাবে অর্থ করে। সতরাং অন্যান্য অ-বাঙালী অপেক্ষা উড়িয়ারা কম টাকা দেশে পাঠাইতে পারে। క్గా శా గా * বেশীর ভাগ তাহারা যাইবার সময় সঙ্গে যায়।” (২৬) স্থানীয় কোন সংবাদপত্রে জনৈক পত্রপ্রেরক লিখিয়াছেন—(৬ই জানায়ারী, ১৯৩২) : “অ-বাঙালীদের সাধারণ প্রথা এই যে, তাহারা নিজেদের জাতীয় মাচী, নাপিত, ধোবা, ভৃত্য প্রভৃতি রাখে। তাহার অর্থ এই যে, বাঙালীরা অ-বাঙালীদের নিকট হইতে এক পয়সা লাভ করিতে