পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছে, সেগুলি বোবাইয়ের এলাকার মধ্যেই অবস্থিত। কাপাস শিল্পের কেন্দ্র হইবার সযোগ সুবিধা বোম্বাইয়ের চেয়ে বাংলার কম নহে। এ বিষয়ে বাধা বাংলায় উপযুক্ত মলধন ও উৎসাহের অভাব। কয়লা, তলা, শ্রম এবং চাহিদা এ সবই পাওয়া যায়, কিন্তু বটিশদের কমশক্তি অন্য পথে গিয়াছে এবং বসন্ত্রশিলেপ বোবাই প্রদেশ তাহার আর্থিক সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বলে একরপ একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করিয়াছে। ইহার ফলে স্বদেশী আন্দোলন ও সংরক্ষণ শলক নীতি প্রসন্ত সমস্ত লাভের কড়ি বোম্বাইয়ের ভাণ্ডারে যাইতেছে। এ বিষয়ে কোন অস্পষ্টতা নাই। গত কয়েক বৎসর ধরিয়া ভারত আমদানী বসাজাতের জন্য বৎসরে ৬০ কোটী টাকা ব্যয় করিয়াছে। ঐ ব্যবসা নানা কারণে ভারতীয়দের হাতে যাইয়া পড়িতেছে এবং দেখা যাইতেছে যে, অধিকাংশ কাপড়ের কলই বোম্বাই প্রদেশে প্রতিষ্ঠিত হইতেছে। ইহার ফলে কেবল বস্ত্রশিল্পে নয়, সমস্ত প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যাপারে বোবাই প্রদেশই ভারতে প্রভুত্ব করিবে। বোম্বাইয়ের এই আর্থিক অভিযান এখনই আরম্ভ হইয়াছে। যদিও ইহা এখন প্রাথমিক অবস্থায় আছে এবং কয়েক বৎসর পরে কলিকাতা ও ব্রিটিশ সম্প্রদায়, কংগ্রেস কাষ প্রণালী অনুসারে, আর্থিক ব্যাপারে বোবাইয়ের অধীন হইয়া পড়িবে। জামশেদপরে যাহা ঘটিয়াছে, কলিকাতাতেও তাহারই পনেরভিনয় হইবে। আর বোবাই যদি বসশিপে আরও সপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাহার কাষক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়, তবে সে ব্যবসা বাণিজ্যে ও আর্থিক ব্যাপারে ভারতের রাজধানী হইয়া দাঁড়াইবে এবং কলিকাতা বিজয় করিতে তাহার পক্ষে ২০ বৎসরের বেশী লাগিবে না। আমাদের এই অনমান যদি সত্য হয়, তবে বরাজের আমলে, বাংলাদেশ আর্থিক ব্যাপারে পরাধীনই থাকিয়া যাইবে, কেবল ব্রিটিশ বণিকদের পরিবতে বোবাইয়ের ব্যবসায়ীরা তাহার প্রভু হইবে।”—ডিচারের ডায়েরী। বোবাইয়ের কলওয়ালারা বাঙালীদের দেশপ্রেমের সযোগ লইয়া যেভাবে বাংলাকে শোষণ করিয়াছে, তাহার পরিচয় নিম্নলিখিত কথোপকথনের ভিতর দিয়া পাওয়া যাইবে। বোম্বাইয়ের একজন কলওয়ালার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর এইরুপ কথাবাতী হইয়াছিল – "আপনি জানেন যে, ইহার পাবেও সবদেশী আন্দোলন হইয়াছিল ?” “হাঁ, তাহা জানি।”—আমি উত্তর দিলাম। “আপনি ইহাও অবশ্য জানেন যে, বঙ্গভঙ্গের সময়ে বোম্বাইয়ের কলওয়ালারা স্বদেশী আন্দোলনের সযোগ পণমাত্রায় গ্রহণ করিয়াছিল ? যঞ্জন ঐ আন্দোলন বেশ জোরে চলিতেছিল, তখন আমরা কাপড়ের দাম চড়াইয়া দিয়াছিলাম। আরও অনেক কিছল অন্যায় কাজ করিয়াছিলাম।" “হাঁ, আমি এ সম্বন্ধে কিছু শনিয়াছি এবং তাহাতে বেদনা বোধ করিয়াছি।” “আমি আপনার দুঃখ বঝিতে পারি, কিন্তু ইহার কোন সঙ্গত কারণ দেখি না। আমরা দান খয়রাতের জন্য ব্যবসা করিতেছি না। আমরা লাভের জন্য ব্যবসা করি, অংশীদারদের লভ্যাংশ দিতে হয়। আমাদের পণ্যের মুল্য চাহিদা অনুসারে নিদ্ধারিত হয়। চাহিদা ও যোগানের অর্থনীতিক নিয়ম কে লম্বেন করিতে পারে ? বাঙালীদের জানা উচিত ছিল যে, তাহদের আন্দোলনে স্বদেশী বস্ত্রের চাহিদা বধি পাইবে ও উহার মল্য বাড়িয়া বাইবে।” আমি বাধা দিয়া কহিলাম,—“বাঙালীদের প্রকৃতি আমার মতই বিশ্বাস-প্রবণ। তাহারা বিশ্বাস করিয়াছিল যে, কলওয়ালারা দেশের সঙ্কটসময়ে সবাথপরতার বশবতী হইয়া বিশ্ববাসঘাতকতা করিবে না। কলওয়ালারা এত দর চরমে উঠিয়াছিল যে, বিদেশী কাপড়ওঁ • প্রতারণা করিয়া দেশী বলিয়া চালাইতে কুষ্ঠিত হয় নাই।”