পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"দেখা যাইবে, মধ্যবিং সম্প্রদায়ের বাঙালীদের জীবিকার ক্ষেত্র এখন তাহদের পাব পরষদের চেয়ে বিস্তৃত। তৎসত্ত্বেও তাহারা কেবল কতক গলি বিশেষ শ্রেণীর জীবিকাই পছন্দ করে। সাধারণ ভদ্রলোক এমন কাজ করিতে চায় না,—যাহাতে লেখাপড়ার প্রয়োজন হয় না। সে অলপ বেতনের কেরাণীগিরি সাগ্রহে গ্রহণ করিবে অথবা ওকালতী ব্যবসায়ে ভিড় জমাইবে; কিন্তু মদী, ঠিকাদার অথবা পরানো মালের ব্যবসায়ী হইবার কল্পনা সে করিতে পারে না। অশিক্ষিত অথচ ঐশবষশালী হিন্দুস্থানীদের অবলম্বিত ব্যবসায়ের প্রতি তাহার ঘোর অবজ্ঞা—কিন্তু সে ঐ সব অশিক্ষিত ব্যবসায়ীদের অধীনেই কেরাণীগিরি করিতে বিন্দমাত্র আপত্তি করে না। নিতান্ত কস্টে পড়িলে সে কোন অশিক্ষিতের ব্যবসা অবলম্বন করিতে পারে, কিন্তু তখনও সে এমন ব্যবসা বাছিয়া লইবে যাহা অপেক্ষাকৃত নতন এবং নিম্পনজাতীয় লোকদের পৈতৃক ব্যবসা নয়। দন্টান্ত স্বরুপ সে মোটর ড্রাইভার, ঘড়ি অথবা যান্ত্রিকও হইতে পারে, কিন্তু দজী, ছতার বা কামারের কাজ কখনই ना ! “ইহার অবশ্য ব্যতিক্ৰম আছে, কিন্তু উপরে যাহা বলিলাম, সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালীর পক্ষে তাহা মোটামুটি খাটে। নিম্ন স্তর হইতে লোকের আমদানী হইয়া এই মধ্যবিৎ শ্রেণীর সংখ্যা বধি করিতেছে এবং প্রতিযোগিতায় ভদ্র জীবনের আদশ উচ্চ হইতে উচ্চতর হইতেছে। এই শ্রেণীর লোক মাত্র কতকগুলি জীবিকা পছন্দ করে, কিন্তু তাহাতে সকলের পথনি সঙ্কুলান হইতে পারে না। সেকালে এক এক জন উপাজনশীল ব্যক্তি বহল দরিদ্র ও বেকার আত্মীয়দের ভরণপোষণ করিতেন। কিন্তু জীবিকার আদশ বাড়িয়া যাওয়াতে উপাজনশীল ব্যক্তিদের নিজেদের কথাই বেশী চিন্তা করিতে হয়। দরিদ্র আত্মীয়দের কথা তাঁহারা ভাবিতে পারেন না। ফলে যৌথ পরিবার প্রথা ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, এবং যৌথ পরিবারভুক্ত বহন ব্যক্তি অলস জীবন যাপন অসম্ভব দেখিয়া কাজ খুজিতে বাধ্য হইতেছে। ৰতমান বেকার অবস্থার কারণ “প্রধান কারণ গলি এই ভাবে বিভক্ত করা যাইতে পারে – (১) মধ্যবিং শ্রেণীর লোকদের বিশেষ কতকগুলি জীবিকার প্রতি আসক্তি;—যথা, (ক) ডাক্তারী, ওকালতী, প্রভৃতি বিবং ব্যবসা; (খ) যে সব কাজে স্কুল কলেজের শিক্ষা প্রয়োজনীয়; (গ) যে সব কাজের সঙ্গে নিম্ন জাতির নাম জড়িত নহে। (২) নতন বত্তি শিখিবার সাযোগের অভাব,—নতন জীবিকার অভাব। (৩) ব্যবসায়ীদের সহিত সংপশ না থাকার দরুণ ব্যবসা বাণিজ্যে অজ্ঞতা। (৪) যৌথ পরিবার প্রথা ভাঙ্গিয়া যাওয়ায় বহু বেকার লোকের সস্টি। (৫) নিম্ন স্তর হইতে বহ লোক আমদানী হইয়া মধ্যবিং শ্রেণীর সংখ্যা বধি করিয়াছে; এই সব নতেন লোকের মনোবাত্তি ভদ্রলোকদেরই মত। (৬) বিদেশী এবং ভারতের ভিন্ন প্রদেশ হইতে আগত লোকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। উহারা চরিত্র ও অভ্যাসের গণে, বাঙালীদের চেয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে বেশী যোগ্যতা প্রদর্শন করে। टाँङकोटब्रब्र छैनाम्न “এইরূপ প্রায়ই বলা হইয়া থাকে যে, গবৰ্ণমেণ্ট বা বিশ্ববিদ্যালয় যদি ব্যাপক ভাবে বত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করেন, তাহা হইলেই এই বেকার সমস্যার সমাধান হইতে পারে।