পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশ্রমের পরম্বকার কয়েক বৎসর পরে মিলিল। ১৮৭৮ সালে আমাদের কলিকাতার বাসা তুলিয়া দিতে হইল, কেননা পিতা তখন ঋণগ্রস্ত হইয়া সব দিকে খরচ কমাইতে বাধ্য হইলেন। ৮০নং মত্তারাম বাবর ট্রীটের একটি বাড়ীতে আশ্রয় লইতে বাধ্য হইলাম । এই সময় আমার ব্যবসাবধি কাজে লাগিল। পিতা আমার মাসিক খরচের টাকা পাঠাইতে যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেন। কিন্তু তাঁহার অবস্থা বঝিয়া, আমি তাঁহাকে এই দুশ্চিন্তা হইতে নিম্প্রকৃতি দিবার জন্য ব্যস্ত হইলাম। আমি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিলাম, উইলসনের অভিধান প্রতি খণ্ড ছয় টাকা মল্যে বিক্রয় হইবে। কলিকাতার পাতক বিক্রেতাদের নিকট হইতে এবং ভারতের নানাসথান হইতে অডার আসিতে লাগিল। বই বেশ বিক্ৰী হইতে লাগিল এবং আমি সাহস পাবক পস্তক বিক্ৰয়ের এজেন্সি খলিয়া বসিলাম। জ্ঞানেন্দচন্দ্র রায় অ্যাণ্ড ব্রাদাসের নামে উইলসনের অভিধান প্রকাশিত হইয়াছিল, সতরাং আমার এজেন্সিরও ওই নাম দিলাম। আমার কোন মলধন ছিল না, সতরাং অভিধান বিক্ৰয়ের বিজ্ঞাপনের নীচে এই কথাটিও লেখা থাকিল—“মফঃস্বলের অডার যত্নের সহিত সরবরাহ করা হয়।” বাড়ীর দরজায় “জি. সি. রায় অ্যাণ্ড ব্রাদাস, পস্তক বিক্লেতা ও প্রকাশক”— এই নামে একখানি সাইন বোড়ী টাঙাইয়া দিলাম। মনে মনে সঙ্কল্প করিলাম যে, কলেজের পড়া শেষ হইলে আমি পুস্তক বিক্লয়ের ব্যবসা অবলম্ববন করিব। (২২) ঐ সময়েও সরকারী চাকরীর প্রতি আমার একটা বিরাগের ভাব ছিল। কিন্তু গিলক্সাইস্ট বত্তি পাইয়া আমার সমস্ত মতলব বদলাইয়া গেল। ভগবানের ইচ্ছায়, আমার যাহা কিছু শক্তি ও যোগ্যতা বিজ্ঞানসেবা ও দেশের অন্যান্য নানা কাজে নিয়োজিত হইল। 'ಸ್ಟ್ಗ এস-সি.) ক্ষদ্র আকারে পস্তক ব্যবসা আরম্ভ , এখন ডহা সবেহেৎ করিয়াছেন; বলা বাহুল্য যে, তাঁহারা আমার বারা অণপ্রাণিত হইয়াছেন। তাঁহাদের ফামের নাম চুক্লবতী, চাটাজী অ্যান্ড কোং, পাতক বিক্রেতা ও প্রকাশক। আমার বাল্যকালের মনের আকাক্ষা এই দিক দিয়া চরিতাথ হইয়াছে।