পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি সকোচ ও সংশয়পণ হদয়ে, জনসাধারণের সম্মখে এই আত্মজীবনী উপস্থিত করিতেছি। যে কোন পাঠক সহজেই বুঝিতে পারবেন যে, ইহার কোন কোন অংশ সংক্ষিপ্ত, কতকটা অসংলগ্ন। এক সময়ে আমার ইচ্ছা হইয়াছিল, গ্রন্থখানি আমলে সংশোধন করিয়া ছাপিতে দিব। কিন্তু ঘটনাচকে বর্তমান সময়ে আমার জীবন অত্যন্ত কম বহল হইয়া পড়িয়াছে। সতরাং আমলে সংশোধন করিতে গেলে পাতক প্রকাশে বিলম্ব হইত, অথচ এদিকে পরমায়ও শেষ হইয়া আসিতেছে। এই সমস্ত কারণে শুভস্য শীঘ্ৰং এই নীতি অবলম্বন করিয়া বহল দোষ ঘটী সত্ত্বেও আমি এই গ্রন্থ প্রকাশ করিলাম। পাতকের কোন কোন অংশ ৮। ৯ বৎসর পাবে লিখিত হয়, ১৯২৬ সালে ইয়োরোপ যাতায়াতের সময় কতকাংশ লিখি। অন্যান্য অংশ বাংলার সবত্র, তথা ভারতের নানা প্রদেশে ভ্রমণের সময় গত কয়েক বৎসরে লিখিত হয়। এই সমস্ত কারণে পাস্তকের স্থানে স্থানে খাপছাড়া ও অসংলগ্ন বোধ হইতে পারে। কেহ কেহ হয়ত পরামর্শ দিবেন যে, জতা নিমাতার শেষ পৰ্যন্ত নিজের ব্যবসায়েই লাগিয়া থাকা উচিত, রসায়নবিদের পক্ষে তাহার লেবরেটরীর বাহিরে যাওয়া উচিত নহে। সৌভাগ্যক্রমে অথবা দভাগ্যক্রমে, এই আত্মজীবনীতে কেবল রসায়নের কথা নাই, বাহিরের অনেক কথাও আছে। আমি যাহা তাহাই, আমার মধ্যে পরস্পর-বিরোধী অনেক ভাব আছে। বাৰ্ণাড শ’ যথার্থই বলিয়াছেন, “কোন লোকই খাঁটি বিশেষজ্ঞ হইতে পারে না, কেননা তাহা হইলে সে একটা আস্ত আহাম্মক হইবে।” এই পাস্তকে যে সব বিষয় সন্নিবিষ্ট হইয়াছে, তাহা পরস্পর-বিরোধী কতকগুলি ব্যাপারের একত্র সংগ্রহ; অথচ ইহা একজন বাঙালী রসায়নবিদের জীবন কাহিনীরপে গণ্য হইতে পারে কিনা, পাঠকগণই তাহার বিচার করিবেন। আমার জীবন বৈচিত্র্যহীন শিক্ষকের জীবন। লোমহর্ষণ অভিযান, অথবা উত্তেজনাপণ বিপদজনক ঘটনা, আমার জীবনে ঘটে নাই। কোন রাজনৈতিক গতে কথাও উদগ্রীব পাঠকদিগকে আমি শনাইতে পারিব না। কিন্তু তব আমার বিশ্বাস, বৈচিত্র্যহীন, চমকপ্রদ ঘটনাবজিত অনাড়ম্বর জীবনের সরল কাহিনী আমার দেশবাসীর নিকট বিশেষতঃ যবেকদের নিকট কিয়ৎপরিমাণে শিক্ষাপ্রদ ও হিতকর হইবে। আমার জীবনের সমস্ত প্রকার কার্যকলাপের কথাই সংক্ষেপে বলা হইয়াছে। পসস্তক লিখিয়া শেষ করিবার পর, আমি ৪। ৫ বৎসর উহা ফেলিয়া রাখি এবং বাংলার আর্থিক অবস্থা বিশেষরপে অধ্যয়ন করি। আর্থিক ক্ষেত্রে বাঙালীর শোচনীয় ব্যথতা যে আমার ব্যক্তিগত ধারণা নয়, বাস্তব সত্য, তৎসম্বন্ধে আমি নিঃসংশয় হইতে চেষ্টা করি। দেখিলাম, এ সম্বন্ধে সে সমস্ত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি চিন্তা ও আলোচনা করিয়াছেন, দভাগ্যক্লমে তাঁহাদের সঙ্গে আমার মতের সম্পণে মিল আছে। আমি ঐ সব বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রন্থের পাদটীকায় উদ্ধত করিয়াছি। আমি যবেকদের নিকট বস্তৃতায় অনেক বার বলিয়াছি যে, আমি প্রায় ভ্রম কমে রাসায়নিক