পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৪০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিকট হইতে আমাদের লাভ করিতে হইবে। জ্ঞান ও বন্ধি-মত নিয়ত কাষ" করিয়া যে ফল হয়, তার বেশী মানুষ আশা করিতে পারে না।” জে. এস. মিল সংশয়বাদীরপে গণ্য (কেহ কেহ তাঁহাকে নিরীশ্বরবাদীও বলেন); কিন্তু তিনি এক স্থানে বলিতে গেলে অদষ্টবাদের বা ভগবানের বিধানের উপর তাঁহার বিশ্বাস জ্ঞাপন করিয়াছেন, যথা – “কেহ নিজের কোন কৃতিত্ব ব্যতীতই ধনী হইয়া জন্ম গ্রহণ করেন, কেহ কেহ বা এমন অবস্থার মধ্যে জন্ম গ্রহণ করেন যে, নিজের কায্যের দ্বারা ধনী হইতে পারেন। অধিকাংশ লোককেই সমস্ত জীবনে কঠোর পরিশ্রম ও দারিদ্র ভোগ করিতে হয়। অনেকে অতি নিঃস্ব ভিখারীরপে জীবন যাপন করিতে বাধ্য হয়। জীবনে সাফল্য লাভের প্রধান উপায়—জন্ম বা বংশ, তার পর ঘটনাচক্ল এবং সযোগ সুবিধা। যিনি ধনীর গহে জন্ম গ্রহণ করেন নাই, তিনি সাধারণতঃ নিজের পরিশ্রম ও কাৰ্যদক্ষতা বলেই তাহা লাভ করেন বটে, কিন্তু কেবল মাত্র কার্যকুশলতা বা পরিশ্রমে কিছুই হইত না, যদি ঘটনাচক ও সুযোগ সুবিধা তিনি না পাইতেন। অলপ লোকের ভাগ্যেই সেরাপ ঘটিয়া থাকে।...চরিত্রের সদগণ অপেক্ষা কমশক্তি ও বন্ধিবত্তি জীবনে সাফল্য লাভের পক্ষে বেশী প্রয়োজন। অধিকাংশ লোকের পক্ষে, তাঁহাদের চরিত্র যতই সৎ হোক না কেন, অনকেল ঘটনাচক্রের সাহায্য ব্যতীত জগতে সাফল্য লাভ সম্ভবপর নয়।” আমার জীবনের বিবিধ কম বৈচিত্র্যের মধ্যে আমি নিম্নলিখিত শাস্ত্রবাক্যটির তাৎপৰ্য অনুভব করিয়াছি ঃ– ত্বয়া হাষীকেশ হাদিস্থিতেন যথা নিষত্তোহসিম তথা করোমি। বাঙালীদের ক্রটী ও দেীবল্য সম্বন্ধে আমি অনেক কথা বলিয়াছি; আমার এই সময়োচিত সাবধান বাণী অরণ্যরোদনে পর্যবসিত হইবে না, এই আশাতেই ঐ সব কথা বলিয়াছি। বাঙালীর চরিত্রে অনেক মহৎ গণ আছে এবং আমি নিজেকে বাঙালী বলিয়া গব অনুভব করি। কিন্তু একটা প্রধান বিষয়ে, জীবিকা সংগ্রহ ও অর্থ সংস্থানে—সে অক্ষমতা প্রদশন করিয়াছে। গত ৪০ বৎসর ধরিয়া বাঙালীর এই অন্ন সমস্যার কথা আমি চিন্তা করিয়াছি এবং আমি সশস্ত্ৰক চিত্তে দেখিতেছি যে, বাঙালী তাহার নিজ বাসভূমে জীবন সংগ্রামের প্রতিযোগিতায় আত্মরক্ষা করিত্বে পারিতেছে না। এই সব কথা লিখিবার সময় আমি বাংলার গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করিতেছি এবং বাংলার বালক ও যুবকদের কাৰ্যকলাপ বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষণ করিতেছি। তাহাদের শীর্ণ দেহ, রক্তহীন বিবণতা, জ্যোতিঃহীন চক্ষ, অনাহার-ক্লিষ্টতারই পরিচয় প্রদান করে। তাহার মখে একটা অসহায় ভাব। পরাজয়ের গলানি যেন তাহার সমগ্র চরিত্রের মধ্য দিয়া ফটিয়া উঠিতেছে এবং কমেই গভীর নৈরাশ্যের মধ্যে ডুবিয়া যাইতেছে। যে জাতির যবেকশক্তি এই ভাবে নৈরাশ্যপীড়িত এবং মানসিক অবসাদগ্ৰস্ত হইয়া পড়ে, তাহাদের ভবিষ্যতের কোন আশা থাকে না। কিন্তু তৎসত্ত্বেও আমার জীবনসায়াহ্নে আমি একেবারে আশা ত্যাগ করিতে পারিতেছি না। একজন শিক্ষাব্যবসায়ী হিসাবে, আমি পুনঃ পনঃ বলিয়া আসিয়াছি—বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধির মোহ বাঙালী চরিত্রের একটা প্রধান গ্রন্টী। অন্য জাতিদের তুলনায় বাঙালীদের মধ্যেই এই মোহ বোধ হয় খুব বেশী। বাণাড শ' বলিয়াছেন—“নিবোধের মস্তিকেই দশনকে নিবাধিতায়, বিজ্ঞানকে কুসংস্কারে, এবং শিল্প সাহিত্যকে পাণ্ডিত্যগবে পরিণত করে। এই কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ব্যবস্থা।” “পণ্ডিত ব্যক্তি অলস, সে পড়িয়া,