পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাক্ষ্য বলিতে গেলে প্রকাশ্যেই গ্রহণ করা হইত। বিবাদের বিষয় সকলেরই প্রায় জানা থাকিত এবং যদি কেহ মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়া বিচারকের চোখে ধলা দিতে চেষ্টা করিত, তবে তাহা প্রায়ই ব্যথা হইত। আর এখনকার আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রভৃতি দেওয়ার যে প্রলোভন আছে, তখনকার দিনে তাহা ছিল না। অবশ্য, এই বিচারপ্রণালী দোষমন্ত ছিল । না। কেননা, তখনকার দিনে গ্রামবাসী জমিদারের সংখ্যা বেশী ছিল না এবং এই গ্রামবাসী জমিদারের নিকটেও অনেক সময় ঘষখোর ও অসাধ নায়েবদের মারফৎই যাইতে হইত। বলা বাহুল্য বাদী বা বিবাদীকে অধিকাংশক্ষেত্রেই নিজের সুবিধার জন্য এই নায়েবদিগকে ঘাষ দিয়া সন্তুষ্ট করিতে হইত। তবে ঐ বিচারপ্রণালীর একটা দিক প্রশংসনীয় ছিল। রক্ষ এবং সেকেলে “খারাপ" প্রথায় সবিচার (বা অবিচার) করা হইত, কিন্তু তাহাতে অযথা বিলাব হইত না। আর ব্যাপারটা তখন তখনই শেষ হইয়া যাইত, তাহা লইয়া বেশী দরে টানা হেচড়া করিতে হইত না; অন্য একটি অধ্যায়ে আমি এ বিষয় বিস্তৃতভাবে আলোচনা করিয়াছি।