পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাড়ী একটা ছোটখাট চিড়িয়াখানা ছিল এবং বহু দশকের ভিড় সেখানে হইত। হুগলী নদীর ধারে তখন আধ ডজনেরও কম জুটমিল ছিল।(১) মাড়োয়ারী কতৃক বাগলার অর্থনৈতিক বিজয়ের লক্ষণ তখনও সপষ্ট দেখা দেয় নাই। এই বিজয় অবশ্য একটি প্রবল যন্ধে করা হয় নাই, ক্ৰমে ক্ৰমে ধীরে, শান্তভাবে তাহারা বাঙ্গলা দেশকে আর্থিক যন্ধে পরাস্ত করিয়াছে। এক শতাব্দী পাবে মতিলাল শীল, রামদুলাল দে, অকর দত্ত এবং আরও অনেকে আমদানী-রপ্তানীর ব্যবসায়ে ক্রোড়পতি হইয়াছিলেন। পরবর্তীকালে শিবকৃষ্ণ দী এবং রাজা হৃষীকেশ লাহার পর্বপর্যষ—প্রাণকৃষ্ণ লাহা যথাক্ৰমে আমদানী লৌহ ব্যবসায়ে এবং বস্ত্র ব্যবসায়ে প্রভূত ঐশ্ববষ সঞ্চয় করিয়াছিলেন। পরাতন হিন্দ কলেজের অন্যতম প্রতিভাশালী ছাত্র ডিরোজিওর শিষ্য রামগোপাল ঘোষ, প্রসিদ্ধ বক্তা এবং রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তাঁহাকে বিলাতের এক পত্র “ভারতীয় ডেমসথেনিস” এই আখ্যা দিয়াছিলেন। রামগোপাল ঘোষ তাঁহার অধিকাংশ সহাধ্যায়ীর মত সরকারী চাকুরী গ্রহণের জন্য ব্যগ্র হন নাই। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য আরম্ভ করেন এবং একজন ইংরাজ অংশীদারের সঙ্গে কেলসাল ও ঘোষ' নামে ফাম খালেন। (২) রামগোপাল ঘোষের বন্ধ ও সতীর্থ প্যারীচাঁদ মিত্র সরকারী চাকুরী অপেক্ষা ব্যবসা-বাণিজ্যই বরণীয় মনে করিয়াছিলেন। তাঁহার আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসায় ছিল। ব্রিটিশদের আগমনের প্রথম সময় হইতেই বাঙ্গালীরা ইউরোপীয় ব্যবসায়ী ফামাসমহের বেনিয়ান’ (মৎস্যদি) ছিলেন এবং এই উপায়ে তাহারা বহন অথ* সঞ্চয় করিয়াছেন। আমি যখন প্রথম কলিকাতায় আসি, তখন পৰ্যন্ত গোরাচাঁদ দত্ত, ঈশান বস এবং অন্যান্য বিখ্যাত বেনিয়ানদের সমতি বাঙ্গালীদের মধ্যে জাগ্রত ছিল। কিন্তু এই সব প্রথম আমলের বাঙ্গালী মহাজন এবং বেনিয়ানেরা নিজেদের বংশাবলীর জন্য ধন্বংসের বীজ বপন করিয়া গিয়াছিলেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারী কিনিবার প্রলোভনে সহজেই তখনকার ধনীদের মন আকৃষ্ট হইত। আর এক দিকে “সন্যাসত আইন” এবং অন্য দিকে মালিকদের আলস্য, বিলাসিতা ও উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য জমিদারীও সবাদা নীলামে চড়িত। জমিদারীর প্রতিষ্ঠাতারা সাধারণতঃ বনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন, নিজেদের শক্তিতে জমিদারী করিতেন, সতরাং তাঁহারা প্রায়ই উচ্ছৃঙ্খল প্রভাবের লোক হইতেন না। কিন্তু তাঁহাদের বংশধরেরা "রপোর ঝিনক” মাখে লইয়াই জন্মগ্রহণ করিত, নিজের চেষ্টায় কিছুই তাহাদের করিতে হইত না এবং ইহাদের চারিদিকে মোসাহেব ও পরগাছার দল ঘিরিয়া থাকিত। সতরাং তাহারা যে বিলাসী ও উচ্ছঙ্খল হইত, ইহা আশ্চয্যের বিষয় নহে। তাহারা নিজেদের মানসিক উন্নতির জন্য কোন চেষ্টা করিত না, কেবল বিলাস-বাসনে ডুবিয়া থাকিত। “অলস মস্তিক সয়তানের কারখানা।” ডাঃ জনসনকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়—“জ্যেষ্ঠাধিকারের পরিণাম কি ?” তিনি উত্তর দেন যে, “ইহার ফলে পরিবারে কেবল (১) ১৮৬০-৭০ এই দশ বৎসরে ৫টা মিল ১৫০টি তাঁতসহ কায করিতেছে —ওয়ালেশ, “রোমান্স অব জট, ২৬ পয় । * (২) ছাত্রাবস্থাতেই অবকাশ সময়ে ঘোষ বাজারের অবস্থা এবং দেশের উৎপন্ন. দ্ৰব্যজাতের বিষয় আলোচনা করিতে থাকেন। ২০ বৎসর বয়সের পবেই তিনি মাল আমদানী শাকের সম্বন্ধে কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেন। প্রথমে বেনিয়ান, পরে অংশীদার রপে একটি ইউরোপীয় ফামে অভিজ্ঞতা লাভ করিয়া তিনি নিজের ব্যবসা আরম্ভ করেন। তাঁহার কামের নাম হইল আর, জি, ঘোষ এণ্ড কোং—রেঙ্গনে ও আকিরাবে তাঁহার কোম্পানীর শাখা ছিল। তিনি ব্যবসায়ে সাফল্য লাভ KF got To Go“ F-Turz F1 TFT g–"Bengal under the Lt. Governors" —১o ২৪ পথে ।