পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখনকার দিনে আমাদের গ্রাম হইতে কলিকাতায় আসিতে নৌকায় ৩ । ৪ দিন লাগিত। কিন্তু বতমান রেলওয়ে ও ষ্টীমারযোগে পথের দুরত্ব কমিয়া গিয়াছে, এখন ১৪ ঘণ্টায় আমাদের গ্রাম হইতে কলিকাতায় আসা যায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শনাধীনে কোন প্রাসাদতুল্য হোটেল বা ‘মেস ছিল না। আমার পিতার সম্মখে দুইটি মাত্র পথ ছিল। প্রথম, একজন শিক্ষক অভিভাবকের অধীনে কলিকাতায় তাঁহার ছেলেদের জন্য একটি পৃথক বাসা রাখা; দ্বিতীয়, গ্রাম হইতে নিজেরাই কলিকাতায় আসিয়া বাস করা এবং স্বয়ং ছেলেদের তত্ত্বাবধান করা। কিন্তু এই শেষোক্ত পথেও অত্যন্ত অসুবিধা ছিল। আমার পিতা বড় জমিদার ছিলেন না এবং উপযন্ত বেতন দিয়া কোন বিশ্ববত কর্মচারীর উপর গ্রামের সম্পত্তির ভার ন্যস্ত করা তাঁহার পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। তাঁহার জমিদারী কতকগুলি ছোট ছোট তালকের সমষ্টি ছিল এবং তিনি ব্যাঙ্কিং ও মহাজনীর কারবারও আরম্ভ করিয়াছিলেন। এই শেষোক্ত কারবারে তিনি সম্পত্তি বন্ধক রাখিয়া বহু লোককে টাকা ধার দিয়াছিলেন। সতরাং তাঁহার পক্ষে গ্রামে থাকিয়া ঐ সমস্ত সম্পত্তি ও কারবার নিজে দেখা অপরিহার্য ছিল। দীঘকালের জন্য গ্রাম ছাড়িয়া দরে বাস করা তাঁহার পক্ষে স্বভাবতই ঘোর ক্ষতিকর। কোন পথ অবলম্বন করা হইবে, তাহা লইয়া আমাদের পরিবারে আলোচনা চলিতে লাগিল। আমার মনে আছে, পিতা ও মাতার মধ্যে ইহা লইয়া প্রায়ই আলোচনা হইত এবং এ বিষয়ে কোন নিশ্চিত মীমাংসা করা তাঁহাদের পক্ষে কঠিন ছিল। অবশেষে স্থির হইল যে, পিতামাতাই ছেলেদের লইয়া কলিকাতায় থাকিবেন, অন্যথা অলপবয়স্ক ছেলেদের পক্ষে বিদেশে বাসা প্রভৃতির বন্দোবসত করিয়া থাকা অসম্ভব। আমার পিতা তাঁহার পল্লীজীবনের একটি অভাবের কথা বলিয়া প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করিতেন। পল্লীর যে ভদ্রসমাজের মধ্যে তাঁহাকে বাস করিতে হইত, তাহার বিরুদ্ধে তিনি অনেক সময়ই অভিযোগ করিতেন। পল্লীর ভদ্রলোকেরা সম্পণে ভিন্ন জগতে বাস করিতেন। হাফেজ, সাদি এবং বিখ্যাত ইংরাজ সাহিত্যিকদের গ্রন্থ পাঠে ঘাঁহার মন ও চরিত্র গঠিত হইয়াছিল, যিনি রামতন লাহিড়ীর পদমলে বসিয়া শিক্ষালাভ করিয়াছিলেন, তিনি শিক্ষায় অন্ধশতাব্দী পশ্চাৎপদ, কুসংস্কারগ্রস্ত ও গোঁড়ামিতে পাণ লোকদের সংসগো আনন্দলাভ করিবেন, ইহা প্রত্যাশা করা যায় না। দই একটি দন্টান্ত দিলে আমার বক্তব্য পরিস্ফুট হইবে। বিদ্যাসাগর মহাশয় যে বিধবা-বিবাহ আন্দোলন আরম্ভ করেন, তাহা নব্য বাঙ্গালার মন অধিকার করিয়াছিল এবং আমার পিতা এ বিষয়ে তাঁহার উৎসাহ কাষতঃ প্রমাণ করিবার टाकौन ७ नवौन এই “ধম-বিরশ্বে” বিবাহের কথা দাবানলের ন্যায় চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল এবং শীঘ্রই যশোরে আমার পিতামহের কাণে যাইয়া পৌঁছিল। পিতামহ গোঁড়া হিন্দ ছিলেন, সতরাং এই ঘোর অপরাধের কথা শুনিয়া তিনি তম্ভিত হইলেন। তিনি পাকীর বসাইয়া তাড়াতাড়ি যশোর হইতে রাড়ালিতে আসিলেন এবং বিধবা বিবাহ বন্ধ করিতে আদেশ দিলেন। আমার পিতাকে বাধ্য হইয়া এই আদেশ মানিতে হইল এবং বিধবা বিরাহ एनeब्रा श्राद्ध शछेित्र ना । ডাক