পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাত্র ১২ বৎসর সেই সময় আমি শেষরাত্রে ৩টা, ৪টার সময় উঠিয়া কোন প্রিয় গ্রন্থকারের বই. নিজনে বসিয়া পড়িতাম। . পরে আমি এই অভ্যাস ত্যাগ করি; কেননা, ইহাতে সবাস্থ্যের ব্যাঘাত হয়, লাভও বিশেষ কিছদ হয় না। এখন পর্যন্ত ইতিহাস ও জীবনচরিত আমার খুব প্রিয় জিনিষ। চেম্ববারের জীবনচরিত আমি কয়েকবার আগাগোড়া পড়িয়াছি, নিউটন ও গ্যালিলিওর জীবনী আমার বড় ভাল লাগিত, যদিও সে সময়ে জ্ঞান-ভাণ্ডারে তাঁহাদের দানের মহিমা আমি বুঝিতে পারিতাম না। সার উইলিয়াম জোন্স, জন লেড়েন এবং তাঁহাদের ভাষাতত্ত্বের অগাধ জ্ঞান আমার মনকে প্রভাবান্বিত করিত। ফ্রাঙ্কলিনের জীবনীও আমার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। জোন্সের প্রশেনর উত্তরে তাঁহার মাতার সেই উক্তি— পড়িলেই সব জানিতে পারিবে—আমি ভুলি নাই। আমার বাল্যকাল হইতেই বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন আমাকে খাব আকৃষ্ট করিতেন এবং ১৯০৫ সালে আমি যখন দ্বিতীয়বার ইংলন্ডে যাই, সেই সময় তাঁহার একখানি আত্মচরিত’ সংগ্ৰহ করিয়া বহুবার পাঠ করি। পেন্সিলভেনিয়া প্রদেশের এই মহৎ ব্যক্তির জীবনী চিরদিনই আমার নিকট আদশ স্বরপ ছিল— কিরপে সামান্য বেতনের একজন কম্পোজিটার হইতে তিনি নিজের অদম্য অধ্যবসায় ও দজয় শক্তির বারা দেশের একজন প্রধান ব্যক্তিরাপে গণ্য হইয়াছিলেন, তাহা আমি সবিসময়ে সমরণ করিতাম। द्वाशा नम्नाछ। কতকটা আশচয্যের বিষয় হইলেও, বাল্যকাল হইতেই আমি ব্রাহাসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইয়াছিলাম। নানা কারণে ইহা ঘটিয়াছিল। আমার পিতা বাহ্যতঃ প্রচলিত হিন্দুধমে" নামমাত্র বিবাসী ছিলেন, কিন্তু অন্তরে পণরূপে সংকোরবাদী ছিলেন। আমার পিতার গ্রন্থাগারে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার খবে সমাদর ছিল। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, রাজনারায়ণ বসু, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রভৃতির রচনা ও উপদেশ ক্রমে ক্ৰমে আমার মনে ধমীভাবের বীজ বপন করিয়াছিল। কোন শক্তিশালী ব্যক্তিবিশেষের প্রভাব আমার মনের ধর্মবিশ্বাস গড়িয়া তোলে নাই। কোন অপৌরষেয় ধমে আমি স্বভাবতই বিশ্বাস করিতাম না। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় ফ্লাসিস উইলিয়াম নিউম্যানের রচনাবলী, ফ্রান্সেস পাউয়ার কব এবং রাজনারায়ণ বসর পত্রাবলী, আমার মনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। জমাণ স্কুলের অন্যতম প্রতিনিধি ট্রস বাইবেলের যে নব্য সংস্কারমলক আলোচনা করিয়াছিলেন, তাহাও আমার মনে লাগিত। ট্রস প্রণীত "Life of Christ the Man' গ্রন্থে খন্টের জীবনের অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলী বজিত হইয়াছে। এই গ্রন্থ ব্রাহাসমাজের পবর্ণচাষীগণের বিশেষ প্রিয় ছিল। রেনানের ‘Life of Jesus' গ্রন্থকেও এই পর্যায়ে ফেলা যায়। আমার পরিণত বয়সে মাটিনের EndeaVours After the Christian Life” azt “Hours of Thought’ fejezgR পাকার ও চ্যানিংএর রচনাবলী আমার নিত্য সহচর ছিল। বিশপ কোলেনসোর The Pentateuch Critically Examined' asso so. AITR offo Tom & Hè কিন্তু অন্য গ্রন্থে এই পাস্তকের যে উল্লেখ আছে, তাহাতেই আমি উদ্দেশ্য ও মম' উপলখি করিতে পারিয়াছি। পরবতী কালে, মনসা কর্তৃক প্রচারিত সীষ্টর সময়পঞ্জী এবং পথিবীর বয়স সম্বন্ধে ভূবিদ্যার আবিকার এই উভয়ের মধ্যে গভীর অনৈক্য অপৌরষেয় ধর্মে আমার বিশ্বাস আরও নষ্ট করে। হিন্দ সমাজের প্রচলিত জাতিভেদ এবং তাহার আনষঙ্গিক শপশ্যতা আমার নিকট মানষের সঙ্গে মানুষের স্বাভাবিক সম্বন্থের ঠিক বিপরীত