পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলিয়া মনে হইত। বাধ্যতামলেক বৈধব্য, বাল্য বিবাহ এবং ঐ শ্রেণীর অন্যান্য প্রথা আমার নিকট জঘন্য বলিয়া বোধ হইত। আমার পিতা প্রায়ই বলিতেন যে, তাঁহার অন্ততঃ একটি ছেলে বিধবা বিবাহ করিবে এবং আমাকেই তিনি এই কাষের উপযন্ত মনে করিতেন। ব্ৰাহম সমাজের সমাজ-সংস্কারের দিকটাই আমার মনের উপর বেশী প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। কেশবচন্দ্র সেন ১৮৭১ খৃস্টাব্দে বিলাত হইতে ফিরিয়া “সলভ সমাচার" নামক এক পয়সা মল্যের সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এই কাগজে অনেক নতন ভাব থাকিত। কেশবচন্দ্রের নতন সমাজ–ভারতবষীয় ব্রাহাসমাজে প্রতি রবিবার সন্ধ্যায় আমি তাঁহার ধমোপদেশ শনিতে যাইতাম। আদি ব্রাহমসমাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কেশবচন্দ্রই এই নতন সমাজ স্থাপন করেন। কেশবচন্দ্রের গভীর ওজস্বিনী কন্ঠস্বরের ঝঙ্কার এখনও আমার কানে বাজিতেছে। টাউন হলে কিবা ময়দানে বা অ্যালবাট হলে কেশবচন্দ্রের বস্তৃতা শনিবার সযোগ আমি কখনই ত্যাগ করিতাম না। ১৮৭৪ সাল আমার জীবনের একটি গরতের ঘটনাপণ বৎসর। আমি সেই সময় ৪থ শ্রেণীতে পড়িতাম। আগস্ট মাসে আমার গরতের রক্তামাশয় রোগ হইল এবং কুমে ঐ রোগ এত বাড়িয়া উঠিল যে, আমাকে স্কুলে যাওয়া ত্যাগ করিতে হইল। এ পর্যন্ত আমার বাস্থ্য ভাল ছিল, পরিপাকশক্তি বা ক্ষুধারও কোন গোলযোগ ছিল না। আমি পৈতৃক অধিকারে সবল ও সংগঠিত দেহ পাইয়াছিলাম। কিন্তু আমার ব্যাধি ক্ৰমে স্থায়ী রোগ হইয়া দাঁড়াইল এবং যদিও সাত মাস পরে তাহার তীব্রতা কিছ হ্রাস পাইল, তথাপি আমার বাস্থ্য ভাঙ্গিয়া গেল এবং পরিপাকশক্তি নষ্ট হইল। আমি ক্ৰমে দুর্বল হইয়া পড়িলাম এবং তরুণ বয়সেই আমার শরীর আর বাড়িল না। আমি বাধ্য হইয়া আমার আহার সম্বন্ধে কড়াকড়ি নিয়ম মানিয়া চলিতে কৃতসংকল্প হইলাম। এক বিষয়ে এই ব্যাধি আমার পক্ষে আশীবাদ সবরপে হইল। আমি সব সময়েই লক্ষ্য করিয়াছি যে, ক্লাশে ছেলেদের পড়াশনা বেশীদার অগ্রসর হয় না। কতকগুলি ছেলের বন্ধি প্রখর নহে, কতকগুলির বন্ধি মাঝারি গোছের, আর অল্পসংখ্যক ছেলের বন্ধিই উচ্চশ্রেণীর থাকে। এই সব রকম ছেলেকেই একসঙ্গে শিক্ষা দেওয়া হয়, ফলে ইহাদের সকলের বন্ধি ও মেধার গড়পড়তা অনুসারে পড়াশনার উন্নতি হয়; তার বেশী হয় না। ক্লাশে এক ঘণ্টা বস্তৃতা ৪৫ মিনিটের বেশী নহে, তার মধ্যে ছেলেদের হাজিরা ডাকিতেই প্রায় ১০ মিনিট সময় যায়। ইটন, রাগবী, হ্যারো প্রভৃতির মত ইংরাজী স্কুলে এমন অনেক সুবিধা আছে, যাহার ফলে এই সব ক্রটির অন্য দিক দিয়া সংশোধন হয়। ঐ সব স্কুলে ছেলেরা এমন অনেক বিষয় শিখে, যাহা অমল্য এবং যাহার ফলে তাহাদের চরিত্র গঠিত হয়। বই পড়িয়া যাহা শেখা যায় না, এরাপ সব বিষয়ে সেখানে তাহারা শিখে। ওয়াটারলর বন্ধ ইটন স্কুলের ক্রীড়াক্ষেত্রেই জিত হইয়াছিল—ওয়েলিংটনের এই উক্তির মধ্যে অনেকখানি সত্য নিহিত আছে। এই সব স্কুলের হেডমাস্টারদের অনেক সময় বিশপের পদে অথবা অক্সফোর্ড বা কেরিজের মাস্টারের পদে উন্নতি হয়। এইরুপ কুল একজন আনন্ডে— অন্ততপক্ষে বাটলারের—গব করিতে পারে। (৩) কিন্তু বাঙ্গালী ছেলেরা সাধারণতঃ যে সব স্কুলে পড়ে, তাহদের এমন কোন সুবিধা নাই। এখানে তাহাকে এমন এক ভাষায় । (৩) সাম্রাজ্যের প্রথম বাষিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলনীতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিBBB BB BB BBBBB BBBBBB BBB DD BBD DDD BBBB DDD D DDDD जयश् पाठष इऐब्राइजान्न। zs