পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রেষ্ঠ, জীব মনে করে এবং গ্রাম্য বালকদের কথাবাতা, ভাবভঙ্গী, আচার ব্যবহার লইয়া তাহারা নানারপ শেলব বিপ্লপে বর্ষণ করে। তাহারা গ্রামের লোকদের প্রতি সহানুভূতিও বোধ করে না। জনৈক ইংরাজ কবি তাঁহার সময়ে গ্রাম্য জীবনের প্রতি সহরে লোকদের এইরুপ অবজ্ঞার ভাব লক্ষ্য করিয়া, ক্ষুব্ধচিত্তে লিখিয়াছিলেন— Let not Ambition mock their useful toil, Their homely joys, and destiny obscure; Nor Grandeur hear with a disdainful smile The short and simple annals of the poor. বতমানে, যাহারা চিরজীবন সহরে বাস কুরিয়া আসিয়াছে, তাহাদের মুখে “গ্রামে ফিরিয়া যাও” এই ধয়া শুনিতে পাই। কিন্তু তাহদের মথে এসব তোতাপাখীর বলি, কেননা তাহাদিগকে যদি ২৪ ঘণ্টার জন্যও সরল অনাড়ম্বর গ্রাম্যজীবন যাপন করিতে হয়, তবে তাহারা দিশাহারা হইয়া পড়ে। কৃষক ও জনসাধারণের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সংসগের জন্যই আমি ১৯২১ ও ১৯২২ সালে দভিক্ষ ও বন্যাপীড়িতদিগের সেবায় আত্মনিয়োগ করিতে পারিয়াছিলাম। (৪) আমি বৎসরে দুইবার গ্রামে যাইতাম—শীতে ও গ্রীমের অবকাশে। ইহার ফলে আমার মন সহরের অনিষ্টকর প্রভাব হইতে অনেকটা মন্ত হইত। আমার এই বন্ধবয়সেও, শৈশবসমতি জড়িত গ্রামে গেলে আমি যেমন সখী হই এমন আর কিছতেই হই না। আমার পিতার বৈঠকখানায় যাঁহারা আসিতেন, তাঁহাদের সঙ্গ আমি সবভাবতঃ এড়াইয়া চালতাম। কিন্তু সরল গ্রাম্যলোকদের সঙ্গে আমি খাব প্রাণ খলিয়া মিশিতাম। আমি অনেক সময়ে তাহাদের পর্ণকুটীরে ষাইতাম, সেকালে গ্রামে মদীর দোকান খুব কমই ছিল; সাগ, এরারট, মিছর প্রভৃতি রোগীর প্রয়োজনীয় পথ্য গ্রামে অথব্যয় করিয়াও পাওয়া যাইত না। আমি রনে গ্রামবাসীদের মধ্যে এই সকল জিনিষ বিতরণ করিতে ভালবাসিতাম। মাতার ভাণ্ডার হইতেই আমি এই সব দ্রব্য গ্রহণ করিতাম, এবং আমার মাতাও সানন্দে এবিষয়ে আমাকে সাহায্য করিতেন। ১৮৭৬ সালের জানয়ারী মাসের প্রথমভাগে আমি কলিকাতায় ফিরিলাম। অ্যালবার্ট স্কুলের কতৃপক্ষের নিকট, যতদর পর্যন্ত আমি পড়িয়াছি, তাহার জন্য সাটিফিকেট চাহিলাম। উদ্দেশ্য হেয়ার স্কুলে অনরপে শ্রেণীতে ভতি হইব। কিন্তু কালীপ্রসন্ন ভট্টাচাযf(৫) প্রমুখ আমার শিক্ষকেরা সকলে মিলিয়া আমাকে এই কাষ হইতে নিবন্ত করিতে চেষ্টা করিলেন। কৃষ্ণবিহারী সেন মহাশয়েরও শীঘ্রই জয়পরে হইতে ফিরিবার কথা ছিল। সতরাং আমি মত পরিবতন করিলাম। আমার জীবনে এই আর একটী শাভ ঘটনা। হেয়ার স্কুলে শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের সবন্ধ অনেকটা কৃত্রিম ছিল। ক্লাসের (৪) তথাকথিত অবনত সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে অনেকে জেলা সন্মিলনীর জন্য সামান্য চাঁদা দিয়া থাকে। ইহারা প্রায়ই অভিযোগ করে যে, “বাররো কেবল টাকার দরকার পড়িলে আমাদের কাছে আসেন কিন্তু তাঁহারা আমাদের বাথ দেখেন না বা আমাদের সঙ্গে সমানভাবে মিঙ্গেন না।” ধভাগাক্ৰমে তাহাদের এই অভিযোগ সত্য। জাতিগত শ্রেষ্ঠতা হইতে যে অহঙ্কারপাশ দরস্কের ভাব জন্মে তাহাই শিক্ষিত ভদ্রলোক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যবধান সষ্টি করিয়াছে। ફિન્નિ চীনাছাত্রদের আচরণ আমাদের অনুকরণীয়। (৫) সংস্কৃতের অধ্যাপক, অলপদিন পবে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।