পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পত্র, দৈনিক পত্র প্রভৃতি রক্ষিত হইত। আমি ক্লাস বসিবার এক ঘণ্টা পাবে রিডিং রমে যাইয়া সাময়িক পত্র প্রভৃতি যতদর পারি পড়িতাম। এই সময় রািশ-তুক যন্ধে বাধিয়াছিল। ওসমান পাশা পেলভনা এবং আহম্মদ মন্তার পাশা কারস কিভাবে শত্রহসন্ত হইতে রক্ষা করিতেছিলেন জগৎবাসী, বিশেষতঃ, এসিয়াবাসীরা তাহা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করিতেছিল। দিনের পর দিন সংবাদপত্র পাঠ করিয়া আমি যন্ধের গতি প্রকৃতি অনুধাবন করিতাম। বলা বাহুল্য আমার সহানুভূতি সম্পণেরপে তুকদের প্রতিই ছিল, কেননা তাহারাই একমাত্র এসিয়াবাসী জাতি—ষাহারা ইউরোপের উপর তখনও প্রাধান্য বিস্তার করিয়াছিল। মনে পড়ে, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সঙ্গে যন্ধের নৈতিক আদশ" লইয়া আমার তুমলে তকবিতক হইত। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গ্ল্যাডস্টোনের বাক্যের বারা প্রভাবান্বিত হইয়াছিলেন এবং ল্যাডস্টোনের অনুকরণ করিয়া বলিতেন—তুকীরা ” “ ಕಣ್ಣ r ಾ ಜ ಕ ಣ್ಗ : za | কৃষ্ণবিহারীর শিক্ষকতায় ইংরেজী সাহিত্যের প্রতি আমার অনুরাগ বন্ধি পাইল। যাহারা কতকগুলি পদের প্রতিশব্দ দিয়া এবং কতকগুলি শব্দের ব্যাখ্যা করিয়াই কতব্য শেষ করে, কৃষ্ণবিহারী সেই শ্রেণীর সাধারণ শিক্ষক ছিলেন না। তাঁহার শিক্ষাদানের প্রণালী সম্পণে স্বতন্ত্র ছিল। তিনি যে বিষয়ে পড়াইতেন তৎসম্বন্ধে নানা নতন তথ্য সংগ্ৰহ করিয়া বিষয়টি চিত্তাকষক করিয়া তুলিতেন। একদিন পড়াইতে পড়াইতে তিনি বলিলেন যে বায়রণ স্কটকে Apollo's venal son এই আখ্যা দিয়াছেন। এই কথা শুনিয়া আমার কবি বায়রণ সম্বন্ধে জানিতে ইচ্ছা হইল। বায়রণ গ্রীকদিগকে তুরস্কের বন্ধনশঙ্খেল ছিন্ন করিবার জন্য ষে উদ্দীপনাময়ী বাণী শনাইয়াছিলেন আমি ইতিপবেই তাহা কণ্ঠস্থ করিয়াছিলাম। সকটের Ivanhoe উপন্যাসে যে পরিচ্ছেদে লড়াই দ্বারা বিচার মীমাংসা করিবার বণনা আছে, তাহাও আমি পড়িয়াছিলাম। আমি এখন আমাদের লাইব্রেরী হইতে বায়রণ ও সকটের অন্যান্য কাব্য গ্রন্থাবলী খুজিয়া পড়িতে আরম্ভ করিলাম। বাল্যবয়সের আমার এই প্রয়াস যদিও বামন কতৃক দৈত্যের অস্ত্রসম্ভার হরপের sT* ττΊη είτε οΓπ χ§, f.ER •IffJ “English Bards and Scotch Reviewers" নামক রচনায় বায়রণ এডিনবাগের সাহিত্য সমালোচকদের প্রতি যে তাঁর শ্লেষ বষণ করিয়াছিলেন, তাহা পড়িয়া বেশ আনন্দ্র উপভোগ করিলাম। আমি আমার জীবনের এই অংশের কথা বিস্তৃতভাবেই বর্ণনা করিলাম, কেননা দই এক বৎসরের পরেই এমন সময় উপস্থিত হইল, যখন আমাকে সাহিত্য ও বিজ্ঞান এই দুইটির মধ্যে একটিকে বাছিয়া লইতে হইল। আমি সাহিত্যের মায়া ত্যাগ করিয়া বিজ্ঞানেরই আনুগত্য স্বীকার করিলাম এবং বিজ্ঞান নিঃসংশয় একনিষ্ঠ সেবককেই চাহিল। আমি প্রবেশিকা পরীক্ষা দিলাম। আমার শিক্ষকদের আমার সম্বন্ধে খাব উচ্চ আশা ছিল। তাঁহারা আমার পরীক্ষার ফল দেখিয়া একটা নিরাশ হইলেন। কেননা আমার নাম বত্তিপ্রাপ্তদের তালিকার মধ্যে ছিল না। আমি নিজে এই বিষয় শান্তভাবেই গ্রহণ করিলাম। বাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতি করপে মহন্তকাল উদ্জল হইয়া উঠিয়া পরমহতেই নিবিয়া যায়, যাহারা আজ খাব যশের অধিকারী, কিন্তু কালই বিস্মতির গভে বিলীন হইবে, সেরাপ ছেলেদের কথা মনে করিয়া আমি বরাবরই মনে মনে হাসি। বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বারা প্রকৃত মেধা বা প্রতিভার পরিচয় পাওয়া ক্ষয় কিনা, এ বিষয় লইয়া অনেক লেখা বাইতে পারে। শিক্ষকের কাষে আমার ৪৫ বৎসর ব্যাপী অভিজ্ঞতায়