পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনে কোন কোন স্থলে বেশ একটা অহমিকার ভাব থাকে। তাহারা মনে করে যে সহকারী বা অধীনস্থদের নিকট হইতে কিছু শিখিতে হইলে তাহাদের জাত যাইবে বা মযাদা নষ্ট হইবে। আমার সৌভাগ্যক্রমে এরপে কোন দেীবল্য আমার মনে ছিল না। আমি চন্দ্রভূষণ ভাদড়ী এবং পেডলারের সহায়তা গ্রহণ করিতে কিছমাত্র কুণ্ঠিত হইতাম না। এইরপেই আমি অধ্যাপক জীবন আরম্ভ করিলাম। ক্লাসে কিরাপে নিপুণতার সহিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করিতে হয়, আমি পনেঃ পুনঃ তাহার মহড়া দিতে লাগিলাম। শীঘ্রই আমি সঙ্কোচের ভাব কাটাইয়া উঠিলাম এবং পরবতী সেসন আরম্ভ হইলে দেখিলাম, আমি আমার দায়িত্ব পালনে অপট নহি। লেবরেটরির কাজে এবং ব্যবহারিক ক্লাস চালাইতে আমার অন্যের নিকট শিখিবার বিশেষ কিছ ছিল না। কেননা এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। “হোপ প্রাইজ কলার”রপে অধ্যাপকের সহকারীরাপে আমাকে কাজ করিতে হইয়াছে, ইহা আমি পাবেই বলিয়াছি। প্রথম তিনমাস আমাকে খাব পরিশ্রম করিতে হইয়াছিল। কিন্তু তাহাতে আমার আনন্দই হইয়াছিল। ক্লাসে যাইয়া বস্তৃতা করিবার পাবে প্রায়ই বস্তৃতার সারমর্ম লিখিয়া লইতাম। এই নতন কাজে আমার খবে আগ্রহ ও উৎসাহ হইল, কেননা এই কাজ আমার পক্ষে বেশ স্বাভাবিক এবং মনোমত বলিয়া বোধ হইল। আমাদের দেশের যবেকেরা জীবনের বত্তি অবলম্বনে অনেক সময় বিষম ভুল করিয়া বসে। যাহা পরে আর সংশোধন করা যায় না। কোনরপে চিন্তা না করিয়া তাহারা একটা পথ অবলম্বন করে এবং অনেক পরে বঝিতে পারে যে, তাহারা ভুল পথে গিয়াছে। এই শোচনীয় ব্যাপারের জন্য অভিভাবকরাই বেশী দায়ী, এমারসন একথলে যথার্থই বলিয়াছেন যে, অভিভাবকরা তাঁহাদের সাবালক সন্তানদের উপর বেশী রকম মনোযোগ দিয়া তাহাদের ইস্ট অপেক্ষা অনিষ্টই বেশী করেন। একটা চৌকা ছিদ্রের মধ্যে হাতুড়ী পিটিয়া একটা গোলমাখ পেরেক বসাইতে যে অবস্থা হয়, এ ঠিক সেইরকম। সেসনের প্রথম তিনমাস অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের পর পাজার ছটাঁ আসিল। পেড়লার তিন মাসের ছটী লইয়া বিলাতে গেলেন এবং রসায়ন বিভাগের সমস্ত ভার আমার উপর পড়িল। এক হিসাবে আমার শিক্ষক জীবনে সবাপেক্ষা কাৰ্যবহল সময় এই—কখনও কখনও আমাকে পর পর তিনটি ক্লাসে বস্তৃতা করিতে হইত। কিন্তু কাজেই ছিল আমার আনন্দ এবং যেহেতু এই কাজে আমি এক নতন উন্মাদনা বোধ কুরিলাম, সেইজন্য এই গর্ভার বহন করিতে আমার কোন ক্লান্তি হইল না। শিক্ষকরপে কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করিলাম। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাসহ বস্তৃতা দেওয়াতেও একট, নৈপুণ্য লাভ করিলাম। এখন আমি অবসর সময়ে গবেষণা কায করিতে লাগিলাম। বর্তমান সভ্যতার একটা আনুষঙ্গিক ব্যাধি খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ক্ৰমশঃ বাড়িয়া উঠিতেছিল। *ঘি এবং সরিষার তেল, বাঙ্গালীর খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে এই দুইটাই বলিতে গেলে কেবল স্নেহ পদাৰ্থ”। বাজারে ঘি ও তেল বলিয়া যাহা বিক্রয় হয়, তাহা বিশন্ধে নহে। বাজারে বিক্ৰীত এই সব দ্রব্যে ভেজাল পদার্থ কতটা পরিমাণে আছে তাহা রাসায়নিক বিশেলষণ স্বারা নিণয় করা সহজ কাজ নহে। আমি এই শ্রেণীর খাদ্যদ্রব্য বিশেষভাবে পরীক্ষা করিতে আরম্ভ করিলাম। বিশ্বাসযোগ্য স্থান হইতে এই সব দ্রব্য সংগ্রহ করিলাম। নিজের তত্ত্বাবধানেও তৈরী করাইয়া লইলাম। দষ্টান্ত স্বরপ, আমার সাক্ষাতে গর ও মহিষ দোহান হইল এবং সেই দধ হইতে আমি মাখন তৈরী করিলাম। সরিষা ভাঙাইয়া তেল তৈরী করাইয়া লইলাম, এবং যে সব তেল সরিষার তেলের সঙ্গে ভেজাল দেওয়া হয়, তাহাও সংগ্ৰহ করিলাম। এদেশের গরর