পাতা:আত্মচরিত (শিবনাথ শাস্ত্রী).pdf/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ' SoC “বিবাহের পর উপোনের সহিত ও তাহার নবপরিণীত স্ত্রীর সহিত আমার সম্বন্ধ আরও গাঢ় হইয়া আমি সৰ্ব্বদাই তাহাদিগের সংবাদ লাইতাম, এবং কিছু কাজ পড়িলে করিয়া দিতাম। এই সময় হইতে উপেনকে নানাপ্রকার প্রবঞ্চনা-দোষে লিপ্ত দেখিতে লাগিলাম। ঋণশোধের প্রতি দৃষ্টি না রাখিয়া ধার করা, বাড়ীভাড়া করিয়া ভাড়া না দিয়া রাতারাতি লুকাইয়া পলাইয়া অন্য বাড়ীতে যাওয়া, ইত্যাদি। দুই একবার নিজে কািৰ্জ করিয়া টাকা দিয়া এরূপ অবস্থা হইতে তাহাকে সপরিবারে উদ্ধার করিতে হইল। তথাপি তাহার প্রতি বিশ্বাস ভাদিতে অনেক দিন গিয়াছিল। একবার রাত্রি দুইটার সময় উপেন সপরিবারে পলাইয়া কলিকাতা হইতে অমৃতবাজারের শিশিরকুমার ঘোষের বাড়ীতে যান। তখন শিশিরবাবুৱা অগ্রসর সংস্কারক ও ব্রাহ্ম ছিলেন। সেই রাত্রে আমি যোগেন ও উমেশমুখুয্যে সশস্ত্ৰ হইয়া তাদের স্ত্রীপুরুষকে আগুলিয়া নারিকেলডাঙ্গার খালে নৌকায় তুলিয়া দিয়া আসিয়াছিলাম। এখন মনে হইলে হাসি পায়। ইহার পর ডাক্তার লোকনাথ মৈত্র কিছুদিনের জন্য উপেনকে কাশীতে লইয়া যান। সেখানে উপেন গোপনে দেনা করিয়া লোকনাথবাবুকে ঋণগ্ৰস্ত করিয়া পীড়িত অবস্থায় কলিকাতায় আসেন। আসিয়া কিছুদিন আমার বাড়ীতে থাকেন। তাহার বিবরণ এই। আমি তখন ব্ৰহ্মানন্দ কেশবচন্দ্ৰ সেনের নিকট ব্ৰাহ্মধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া, পিতাকর্তৃক গৃহ হইতে তাড়িত হইয়া, কলিকাতায় কলেজস্কোয়ারের উত্তরে একটি গলিতে একজন ব্ৰাহ্ম-বন্ধুর সহিত এক গৃহে বাস করিতেছিলাম। আমার কলেজের স্কলারশিপ মাত্র ভরসা। তাহাতে একটীি ঘর ভাড়া করিয়া কোনও রূপে চালাইতেছিলাম। ইহার মধ্যে উপেন্দ্ৰনাথ আমাকে সংবাদ না দিয়া, গুরুতর পীড়া লইয়া সপরিবারে কাশী হইতে আসিয়া আমার বাসার দ্বারে উপস্থিত । আমি সংবাদ পাইয়া