পাতা:আত্মচরিত (শিবনাথ শাস্ত্রী).pdf/২৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবম পরিচ্ছেদ । সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের সংশ্রবে। যাহা কিছু করিয়াছি তাহাই আমার জীবনের প্রধান কাজ। এখন ভাবিয়া আশ্চৰ্য্য বোধ হইতেছে কিরূপে ঈশ্বর এই ঘূর্ণাপাকের মধ্যে আমাকে আনিয়া ফেলিলেন, তাহার বাণী আমাকে কিরূপে অধিকার করিল। আমার প্রকৃতিনিহিত দুর্বলতা কতবার আমাকে তঁহার প্রদর্শিত পথ হইতে ও তাহার নিদিষ্ট কাজ হইতে দুরে লাইতে চাহিল, কিন্তু তিনি কিছুতেই আমাকে দুরে যাইতে দিলেন না। যেন আমার চুলের টিকি ধরিয়া আমাকে বাধিয়া রাখিলেন। এরূপ মহৎ ব্ৰত ধারণ করিয়াও আমার মুখাসক্তচিত্ত বহুদিন সুখের প্ৰলোভন অতিক্ৰম করিতে পারে নাই ; বারবার আত্মবিস্মৃতির ও ঈশ্বরবিস্মৃতির মধ্যে পড়িয়া সুখের পশ্চাতে চুটিয়াছে। বলিতে কি এই আন্তরিক সংগ্রামের জন্যই আমার দ্বারা যতটা কাজ হইতে পারিত তাহা হইতে পারে নাই। আমি বহুবৎসর যেন দুই ভাত দিয়া ঈশ্বরের সেবা করিতে পারি নাই, এক হস্ত প্ৰবল প্ৰবৃত্তিকুলের সহিত সংগ্রামে আবদ্ধ রাখিতে হইয়াছে এবং যেন অপর হাত দিয়া ঈশ্বরের সেবা করিয়াছি। সময় সময় মনে হইয়াছে আমার মত দুর্বল ব্যক্তির প্রতি প্ৰধান কাৰ্য্যের তার না থাকিলে সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের পক্ষে ভাল হইত। ইহার প্ৰতি লোকের আরও শ্রদ্ধা জন্মিত। বাস্তবিক এতদিন পরে যতই চিন্তা করিতেছি ততই মনে হইতেছে যে, যেরূপ গুরুতর কাৰ্য্যে হস্তাপণ করিয়াছিলাম, তাহার গুরুত্ব যেন বহুদিন হৃদয়ঙ্গম করিতে পারি নাই, সমুচিত দায়িত্বজ্ঞান যেন জাগে নাই। বিবাদ-রিসন্ধাদের মধ্যে উৎসাহের