SDS শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৫ম পরিঃ গিয়া উপস্থিত, আমনি শুনিলাম আমাকে সভামধ্যে উপাসনা করিতে হইবে, সকলে উৎসুক অন্তরে অপেক্ষা করিতেছে । সে কি উপাসনা করিবার অনুকুল অবস্থা ? আমি শুনিয়া অস্বীকৃত হইলাম। কিন্তু শোনে কে ? তৎপূর্ব্বে কখনও প্রকাশ্য স্থানে উপাসনা করিয়াছিলাম, এরূপ স্মরণ হয় না। যে লাজুক ছিলাম, বোধ হয় করি নাই। লাজুক ছিলাম, এই কথাটি পড়িয়া বন্ধুদের অনেকে হয় তা মনে মনে হাসিবেন । কারণ র্তাহারা আমাকে এ সকল বিষয়ে ও অন্যান্য বিষয়ে চিরদিন বেপরোয়া ও বেহায়া দেখিয়া আসিতেছেন । কিন্তু তখন আমি উপাসনাদি বিষয়ে বাস্তবিক বড় লাজুক ছিলাম। সেই মানুষকে ধরিয়া লইয়া যখন সভামধ্যে চেয়ারে বসাইয়া দিল, তখন কি হইল তা হা সকলেই অনুভব করিতে পারেন। প্রথমেই গিয়া শুনিলাম, গান হইতেছে “মনে কর শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর ; অন্যে বাক্য কবে, কিন্তু তুমি রবে নিরুত্তর ” যেমন উপাসনার আয়োজন, তেমনি গান । পরে শুনিলাম, যা তাকে গান করিবার জন্য ধরিয়া আনিয়াছিল, সে ব্যক্তি ব্রহ্মসঙ্গীতের মধ্যে রামমোহন রায়ের গানই জানিত, তাই গাইতেছিল। গান শেস হইলে আমি প্রার্থনা করিতে প্রবৃত্ত হইলাম। আমার প্রার্থনার মধ্যে সভাস্থল হইতে করতালির চটপটা ধ্বনি উঠিতে লাগিল। এই জন্য এ বিবাহ অনুষ্ঠানকে “খিচুড়ী বিবাহ’ বলিয়াছি। উপাসনার পর এক কাগজে বীরকন্যা স্বাক্ষর করিলেন । আমার যত দূর স্মরণ হয়, সাক্ষীদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় বন্ধু আনন্দমোহন বসু এক জন ছিলেন। তখন কিন্তু তাহার সহিত আমার আলাপ পরিচয় झझ ब्ााग्ने । বিধবাবিবাহের পর উপেন্দ্রনাথ দাসের সহিত সম্বন্ধ ।-- বিবাহের পর উপোনের সহিত ও তঁহার নবপরিণীত স্ত্রীর সহিত আমার সম্বন্ধ আরও গাঢ় হইল। আমি সর্ব্বদাই তাহাদিগের সংবাদ লইতাম, এবং কিছু কাজ পড়িলে করিয়া দিতাম। এই সময় হইতে দেখিতে লাগিলাম,
পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৬৮
অবয়ব