পাতা:আত্মচরিত (৪র্থ সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিচ্ছেদ ] भांडोंभछ ܒ 'প্ৰতিবেশীবর্গের অনেকের চক্ষের শূলস্বরূপ হইয়া বহুদিন ধরিয়া আমার মাতুল-পরিবারের ঘোর অশান্তির কাবণ হইয়াছিল। তাহা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণনা করিব । মাতামহ মহাশয়কে আমার বেশ স্মরণ হয়। আমার ৯/১০ বৎসরের সময় তিনি দারুণ উরুস্তম্ভ রোগে গীতাসু হন। তিনি উজ্জ্বল-শ্যামবর্ণ, প্ৰসন্নমূৰ্ত্তি, দীর্ঘাকৃতি পুরুষ ছিলেন। আমাকে “শিবরাম” বলিয়া ডাকিতেন। গৃহস্থালী বিষয়ে পবিপকতা তাঙ্গাব প্ৰধান গুণ ছিল। আমার মাতুলালয়ে সম্বৎসরোব চাল, ডাল, প্ৰভৃতি গৃহস্থের প্রয়োজনীয় তাবৎ দ্রব্য এরূপ সঞ্চিত থাকিত যে, হঠাৎ কোনও দিন দশ-পানব জন অতিথি উপস্থিত হইলে, তাহাদিগকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিতোষ পূর্বক আহার করান মাতামহী ঠাকুরাণীর পক্ষে কিছুই ক্লেশকরা হইত না । মাতামহের মিতব্যয়িত ও পাকা গৃহস্থালীর একটি দৃষ্টান্ত দিতেছি। আমাব বড়মামা দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয়েব প্ৰথম পুত্ৰ উপেন্দ্রনাথেব শৈশব কালে হুক কলিকা হাতে লইয়া বেড়াইবার বাতিক ছিল। একটা হুক ও কলিকা না পাইলে কাদিয়া ঘর ফাটাইত ; রাত্রে তাহাব শয্যার পাশ্বে হুক কলিকা বাখিতে হইত ; বাত্রি দুই প্ৰহরের সময় জাগিলে হুক হুকা করিয়া কঁাদিত । সুতরাং তাহার জন্য হুক ও কলিকা সৰ্ব্বদাই রাখিতে হইত। হুকা ত বড় একটা ভাঙ্গিতে পারিত না, কলিকাগুলি দিলে ১৩ বার ভাঙ্গিত । মাতামহ মহাশয় প্ৰতি শনিবার কলিকাতা হইতে গৃহে আসিতেন, আসিয়া রবিবার গৃহস্থালীর জিনিস গুছাইতেন। একবার আসিয়া রবিবার কয়েক ঘণ্টা বসিয়া মাটি দিয়া এক ঝোড়া কলিকা গড়িয়া খড়ের আগুনে পোড়াইয়া রাখিয়া গেলেন ; অভিপ্ৰায় এই, উপিন যত পারে কুলিকা ভাঙ্গুক। তখন এক পয়সাতে বোধ रुत्र व्यार्कं কলিকা পাওয়া যাইত, সে ব্যয়টুকুও বঁাচাইবার দিকে তাহার এত দৃষ্টি পড়িল।