তাহাতে এইস্থানে অপরিচিত,কে তাকে রক্ষা করিবে, কি রূপে তাহার জাতি-কুল বজায় থাকিবে—এই চিন্তা তাহার হৃদয়ে প্রবল বেগে জ্বলিয়া উঠিল। ক্রমে এক দিন, দুই দিন, তিন দিন গত হইল, কাহারও নিকট হরিদাসীর কোনও সংবাদ পাইল না। কাহারও সহিত সাক্ষাৎ নাই—যেখানে কাহারও যাইবার অধিকার নাই, সেই কারাগারের ভিতর কে যাইয়া তাহার সহিত সাক্ষাৎ করবে? বিশেষ এ নগরীতে সে অপরিচিত। অদ্য চতুর্থ দিবস; একটা নির্জ্জন গৃহে বসিয়া রোদন করিতেছে ও কি করিবে মনে মনে চিন্তা করিতেছে, এবং কে এরূপ অচিন্তনীয় অকুল-দুঃখসমুদ্রে নিক্ষেপ করিয়াছে, মাঝে মাঝে তাহারই আলোচনা করিতেছে, কিন্তু ভবিয়া চিন্তিয়া কিছুই স্থির করিতে পারতেছে না; মন আরও ব্যাকুল হইতেছে। এমন সময় একজন প্রহরী আসিয়া তাহকে সংবাদ দিল, দুইটী বাবু তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছে। তিনকড়ি স্বস্ব-ব্যস্তে জেলের দ্বারদেশে আগমন করিয়া তাহার পূর্ব্ব পরিচিত দুইটী বন্ধুকে দেখিতে পাইল; তাহাদিগকে দেখিয়া দুঃখ অনেক লাঘব হইল, ভাবি আশার সঞ্চার হইল। তিনকড়ি মুহর্ত্তের জন্য শোকবেগ সম্বরণ করিয়া আগন্তুক বন্ধুদ্বয়ের একজনকে সম্বোধন করিয়া বলিল ‘সুরেশ, আমার
পাতা:আদরিণী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
আদরিণী।