পাতা:আধুনিক সাহিত্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৪২

আধুনিক সাহিত্য

সাকার ও নিরাকার
সাকার ও নিরাকার-তত্ত্ব। শ্রীযতীন্দ্রমােহন সিংহ বি. এ.-প্রণীত

ঈশ্বর সাকার কি নিরাকার এইরূপ তর্ক মধ্যে মধ্যে আমাদের দেশে শুনা যায়। কিন্তু বর্তমান সমালােচ্য গ্রন্থে তর্কটা তত দূর স্কুল নহে। গ্রন্থের প্রতিপাদ্য বিষয় এই যে, ঈশ্বরকে সাকার ভাবে উপাসনা করিতে হইবে কি নিরাকার ভাবে।

 কেহ কেহ এ প্রশ্নের উত্তর দিয়া থাকেন যে, যে লােক নিরাকারে মন দিতে পারে না তাহার পক্ষে সাকার-উপাসনা শ্রেয়।

 কিন্তু গ্রন্থকার সেরূপ মাঝামাঝি কিছু বলিতে চাহেন না, তিনি বলেন নিরাকার-উপাসনা হইতেই পারে না। হয় সােহহংব্রহ্ম হইয়া যাও, নয় মূর্তিপূজা করে। তিনি কালাপাহাড়ের ঠিক বিপরীতমুখে সংহারকার্য শুরু করিয়াছেন। মূর্তিপূজাকে কেবল যে তিনি রক্ষা করিতে চান তাহা নহে, অমৃর্তপূজাকে তর্কের দ্বারা ধ্বংস করিতে ইচ্ছা করেন।

 কী হইতে পারে এবং কী হইতে পারে না, তর্ক অপেক্ষা ইতিহাসে তাহার প্রমাণ সহজে পাওয়া যায়। জল যে শীতে জমিয়া বরফ হইতে পারে, উষ্ণপ্রধান দেশের রাজাকে তাহা তর্কে বুঝানাে অসাধ্য; কিন্তু যদি তিনি একবার নড়িয়া হিমালয়প্রদেশে ভ্রমণ করিয়া আসেন তবে এ সম্বন্ধে আর কথা থাকে না। লেখকমহাশয় সে রাস্তায় যান নাই, তিনি তর্কারা বলিয়াছেন নিরাকার-উপাসনা হইতেই পারে না।

 মুসলমানেরা মূর্তিপূজা করে না। অথচ মুসলমান-সম্প্রদায়ের মধ্যে ভক্ত কেহ নাই বা কখনাে জন্মেন নাই, এ কথা বিশ্বাস্য নহে। কী করিয়া যে তাহাদের ভক্তিবৃত্তির পরিতৃপ্তি হয় তাহা যতীন্দ্রমােহনবাবু না বুঝিতে পারেন, কিন্তু মূর্তিপূজা করিয়া নহে এ কথা নিশ্চয়।