পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ه/ه কাল্পনিক চরিত্র থাকিবে ; কথাবার্তাগুলি প্রায়শ: র্তাহার নিজের রচিত, কিন্তু বর্ণিত ঘটনা এবং বিষয়-পরিকল্পনা (প্লট ) একেবারে নিছক সত্য, ইতিহাস হইতে তোলা। তাহার এই সঙ্কীর্ণ সংজ্ঞায় ‘রাজসিংহ ভিন্ন ঐ অপর ছয়টি গ্রন্থ ঐতিহাসিক উপন্যাস হইতে পারে না। তবে, তিনি এগুলি লিখিলেন কেন ? তাহার গার্হস্থ্য উপন্যাসগুলিই তো তাহার অতুলনীয় প্রতিভ, প্লট গাথিবীর, চরিত্র স্মৃষ্টির, কথোপকথন রচিবার শক্তি প্রমাণ করিয়াছিল। সেই শ্রেণীর আরও নভেল লিখিয়া গেলে তাহার যশের কিছুমাত্র হ্রাস হইত না। র্তাহার মস্তিষ্ক তো জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত অটুট তেজ দেখাইয়া . গিয়াছিল। এই প্রশ্নের উত্তর তাহার নিকট হইতেই পাইয়াছি। বঙ্কিম মৰ্ম্মে মৰ্ম্মে, শরীরের সূক্ষ্মতম স্বায়ুতে পর্য্যস্ত, স্বদেশ-প্রেমী স্বজাতি-ভক্ত। বঙ্গদর্শনের সর্বপ্রথম সংখ্যায় নবীন বঙ্কিম, প্রচারে'র সর্বপ্রথম সংখ্যায় প্রবীণ বঙ্কিম, সেই একই কথা বলিতেছেন – “অহঙ্কার অনেক স্থলে মমুষ্যের উপকারী ---জাতীয় গৰ্ব্বের কারণ লৌকিক ইতিহাসের স্বষ্টি বা উন্নতি। ইতিহাস-বিহীন জাতির ফুঃখ অসীম।...বাঙ্গালীর ইতিহাস চাই। নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না। যাহার মনে থাকে যে, এ বংশ হইতে কখন মানুষের কাজ হয় নাই, তাহা হইতে কখন মানুষের কাজ হয় ন৷ ” “যে বলে যে,--বাঙ্গালী চিরকাল হর্বল, চিরকাল ভীরু, স্ত্রীস্বভাব,...তাহার কথা মিথ্যা।...বাঙ্গালী যে পূৰ্ব্বকালে বাহুবলশালী, তেজস্বী, বিজয়ী ছিল, তুাহার অনেক ঐতিহাসিক প্রমাণ পাই। অধিক নয়, আমরা এক শত বৎসর পূর্বের বাঙ্গালী পহলয়ানের, বাঙ্গালী লাঠি শড়কওয়ালারবলবীৰ্য্যের কথা বিশ্বস্তসূত্রে শুনিয়াছি।” পরদেশের নানা উৎকৃষ্ট ইতিহাস পড়িয়া যেমন র্তাহার মনের বিকাশ ও উদাঙ্গ জম্মিল, তেমনি হুঃখ হইল যে, “হায় । ভারতের অতীত কাহিনী তো এমন সুন্দর এমন বিপুল করিয়া লেখা হয় নাই ; বিশেষতঃ আমাদের নিজস্ব বঙ্গজননীর ইতিহাস নাই বলিলেই হয়, আর যাহা ইতিহাস বলিয়া চলিতেছে তাহা লজ্জা ও হীনতার কারণ মাত্র।” ‘আনন্দমঠের ভাব অন্তঃসলিলা গঙ্গার মত ‘আনন্দমঠে’র স্রষ্টাকে আদি যৌবন হইতেই অনুপ্রাণিত করিয়াছিল, যদিও এই ভাব তাহার লেখনীমুখে প্রকাশ পাইতে অনেক বৎসর বিলম্ব ঘটে। তাই, তিনি প্রথম হইতেই বাঙ্গলার ইতিহাস খুজিতে লাগিলেন, অনেক গ্রন্থ পড়িলেন, কিন্তু ইতিহাস গড়িতে পারিলেন না, কারণ সে সময়ে উহার উপাদানগুলি হাতে পাওয়া যাইত না, তাহার মধ্যে অনেকগুলির অস্তিত্ব, এমন কি নাম পৰ্য্যস্ত, তখন