পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


eye উঠিয়াছে। র্তাহার পরবর্তী দুইটি উপন্যাসে-দেবী চৌধুরাণী’ ও ‘সীতারাম—এই শেষোক্ত ধারারই পরিণতি ; বস্তুত, তাহার এই শেষ উপন্যাস তিনটি উদ্দেশ্য ও প্রচারদোষ-ত্বষ্ট বলিয়৷ বহু সাহিত্যিকের নিন্দাভাজন হইয়াছে ; আবার অনেকে এই “উপন্যাস-ত্রয়ী"কে তাহার পরিণত বয়সের মহোত্তম কীৰ্ত্তি বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। প্রথমোক্ত দলে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র এবং শেষোক্ত দলে শ্ৰীঅরবিন্দ, পাচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় ও মোহিতলাল মজুমদার। ১২৮৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস হইতে সঞ্জীবচন্দ্র-সম্পাদিত বঙ্গদর্শনে’ ‘আনন্দমঠ” ধারাবাহিক ভাবে বাহির হইতে থাকে ; ১২৮৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে উহা সমাপ্ত হয়। ১২৮৯ সালেই (ইংরেজী ১৮৮২ খ্ৰীঃ) পুস্তকাকারে আনন্দমঠের প্রথম সংস্করণ “কলিকাতা জনসন প্রেসে শ্রীরাধানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত” হইয়াছিল। এই পুস্তক স্বৰ্গীয় দীনবন্ধু মিত্রকে উৎসর্গীকৃত হয়। প্রথম সংস্করণ–উপক্রমণিকা ১, প্রথম খণ্ড ২৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ২০,--মোট ৪৬ পরিচ্ছেদে ১৯১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ হইয়াছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিতকালের শেষ সংস্করণে (৫ম সং. ) ইহা উপক্রমণিকা ১, প্রথম খণ্ড ১৮, দ্বিতীয় খণ্ড ৮, তৃতীয় খণ্ড ১২ ও চতুর্থ খণ্ড ৮—মোট ৪৭ পরিচ্ছেদে ২১১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ হয়। এখনকার দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথম পরিচ্ছেদটি চতুর্থ সংস্করণের পর ও পরিশিষ্ট দুইটি দ্বিতীয় সংস্করণের পর নূতন সংযোজন। বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত “উপক্ৰমণিকা"র সহিত গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “উপক্রমণিকা’র বিশেষ পার্থক্য আছে— প্রতিশব্দ হইল, "এ পণে-হুইবে না।” “আর কি আছে ? আর কি দিব ।” তখন উত্তর হইল, “তোমার প্রিয়জনের প্রাণসৰ্ব্বস্ব ।” —’বঙ্গদর্শন, চৈত্র ১২৮৭, পৃ. ৫৩৯ । পুস্তকে "এ পণে হইবে না” স্থলে “জীবন তুচ্ছ ; সকলেই ত্যাগ করিতে পারে” এবং “তোমার প্রিয়জনের প্রাণসৰ্ব্বস্ব” স্থলে “ভক্তি” লিখিত হইয়াছে। এই সামান্য পরিবর্তনেই পুস্তকের মূল আদর্শের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়াছে। ১২৮১ সালের কীৰ্ত্তিক সংখ্যা “বঙ্গদর্শনে’ “কমলাকাস্তের দপ্তর। একাদশ সংখ্যা । আমার ছর্গোৎসব” প্রকাশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র সেই প্রথম জন্মভূমির মাতৃরূপ দৰ্শন করিলেন। ‘আনন্দমঠের মূল আদর্শ এই পরিকল্পনারই পরিণতি । এই পরিণতি বুৰিতে হইলে আমাদিগকে গোড়ার কথাগুলিও স্মরণ করিতে হইবে— দেখিলাম—অকস্মাৎ কালের স্রোত, দিগন্ত ব্যাপিয়া প্রবলবেগে ছুটিতেছে—আমি ভেলায় চড়িয়া ভাসিয়া যাইতেছি। দেখিলাম—অনন্ত, অকৃল, অন্ধকারে, বাত্যাবিক্ষুব্ধ তরঙ্গসছুল