পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম খণ্ড-ষোড়শ পরিচ্ছেদ * জীবানন্দ মাথা তুলিয়া চক্ষু মুছিয়া স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “শান্তি । তোমার এ শতগ্রন্থি মলিন বস্ত্র কেন ? তোমার ত খাইবার পরিবার অভাব নাই ।” শাস্তি বলিল, “তোমার ধন, তোমারই জন্য আছে। আমি টাকা লইয়া কি করিতে হয়, তাহ জানি না। যখন তুমি আসিবে, যখন তুমি আমাকে আবার গ্রহণ করিবে—” জীবা । গ্রহণ করিব—শান্তি । আমি কি তোমায় ত্যাগ করিয়াছি ? শান্তি । ত্যাগ নহে—যবে তোমার ব্ৰত সাঙ্গ হইবে, যবে আবার অামায় ভালবাসিবে— কথা শেষ না হইতেই জীবানন্দ শান্তিকে গাঢ় আলিঙ্গন করিয়া, তাহার কাধে মাথা রাখিয়া অনেকক্ষণ নীরব হইয়া রহিলেন । দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়৷ শেষে বলিলেন, “কেন দেখা করিলাম ” শান্তি। কেন করিলে—তোমার ত ব্ৰত ভঙ্গ করিলে ? জীব । ব্রতভঙ্গ হউক—প্রায়শ্চিত্ত আছে। তাহার জন্য ভাবি না, কিন্তু তোমায় দেখিয়া ত আর ফিরিয়া যাইতে পারিতেছি না। আমি এই জন্ত নিমাইকে বলিয়াছিলাম যে, দেখায় কাজ নাই । তোমায় দেখিলে আমি ফিরিতে পারি না। এক দিকে ধৰ্ম্ম, . অর্থ, কাম, মোক্ষ, জগৎসংসার ; এক দিকে ব্রত, হোম, যাগ, যজ্ঞ ; সবই এক দিকে আর এক দিকে তুমি । এক তুমি । আমি সকল সময় বুঝিতে পারি না যে, কোন দিক্‌ ভারি হয়। দেশ ত শান্তি, দেশ লইয়া আমি কি করিব ? দেশের এক কাঠা ভূই পেলে তোমায় লইয়া আমি স্বৰ্গ প্রস্তুত করিতে পারি, আমার দেশে কাজ কি ? দেশের লোকের দুঃখ,— যে তোম। হেন স্ত্রী পাইয়া ত্যাগ করিল—তাহার অপেক্ষ দেশে আর কে দুঃখী আছে ? যে তোমার অঙ্গে শতগ্রস্থি বস্ত্র দেখিল, তাহার অপেক্ষ দরিদ্র দেশে আর কে আছে ? আমার সকল ধৰ্ম্মের সহায় তুমি। সে সহায় যে ত্যাগ করিল, তার কাছে আবার সনাতন ধৰ্ম্ম কি ? আমি কোন ধৰ্ম্মের জন্য দেশে দেশে, বনে বনে, বন্দুক ঘাড়ে করিয়া, প্রাণিহত্যা করিয়া এই পাপের ভার সংগ্ৰহ করি ? পৃথিবী সন্তানদের আয়ত্ত হইবে কি না জানি না ; কিন্তু তুমি আমার আয়ত্ত, তুমি পৃথিবীর অপেক্ষ বড়, তুমি আমার স্বৰ্গ । চল গৃহে যাই—আর আমি ফিরিব না। শাস্তি কিছু কাল কথা কহিতে পারিল না । তার পর বলিল, “ছি—তুমি বীর। আমার পৃথিবীতে বড় স্থখ যে, আমি বীরপত্নী। তুমি অধম স্ত্রীর জন্য বীরধৰ্ম্ম ত্যাগ করিবে ? তুমি আমায় ভালবাসিও না—আমি সে স্থখ চাহি না—কিন্তু তুমি তোমার R