পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●● আনন্দমঠ শাস্তির পিত “যন্তবিন্যতি তন্তুবিন্যতি” বলিয়া, শাস্তিকে মুগ্ধবোধ আরম্ভ করাইলেন । শান্তি বড় শীঘ্র শীঘ্র শিখিতে লাগিল। অধ্যাপক বিস্ময়াপন্ন হইলেন। ব্যাকরণের সঙ্গে সঙ্গে ছুই একখানা সাহিত্যও পড়াইলেন। তার পর সব গোলমাল হইয়া গেল। পিতার পরলোকপ্রাপ্তি হইল । তখন শান্তি নিরাশ্রয়। টোল উঠিয়া গেল ; ছাত্রেরা চলিয়া গেল। কিন্তু শান্তিকে তাহারা ভালবাসিত–শাস্তিকে পরিত্যাগ করিয়া যাইতে পারিল না। এক জন তাহাকে দয়া করিয়া আপনার গৃহে লইয়া গেল । ইনিই পশ্চাৎ সস্তানসম্প্রদায়মধ্যে প্রবেশ করিয়া জীবানন্দ নাম গ্রহণ করিয়াছিলেন । আমরা তাহাকে জীবানন্দই বলিতে থাকিব । তখন জীবানন্দের পিতা মাতা বর্তমান । র্তাহাদিগের নিকট জীবানন্দ কস্তাটির সবিশেষ পরিচয় দিলেন । পিতা মাতা জিজ্ঞাসা করিলেন, “এখন এ পরের মেয়ের দায় ভার নেয় কে ?” জীবানন্দ বলিলেন, “আমি আনিয়াছি—আমিই দায় ভার গ্রহণ করিব।” পিতা মাত বলিলেন, “ভালই।” জীবানন্দ অনুঢ়—শাস্তির বিবাহবয়স উপস্থিত। অতএব জীবানন্দ তাহাকে বিবাহ করিলেন । বিবাহের পর সকলেই অমুতাপ করিতে লাগিলেন। সকলেই বুঝিলেন, “কাজটা ভাল হয় নাই।” শাস্তি কিছুতেই মেয়ের মত কাপড় পরিল না ; কিছুতেই চুল বাধিল না । সে বাটীর ভিতর থাকিত না ; পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মিলিয়া খেলা করিত । জীবানন্দের বাড়ীর নিকটেই জঙ্গল, শাস্তি জঙ্গলের ভিতর এক প্রবেশ করিয়া কোথায় ময়ুর, কোথায় হরিণ, কোথায় দুর্লভ ফুল ফল, এই সকল খুজিয়া বেড়াইত। শ্বশুর শ্বাশুড়ী প্রথমে নিষেধ, পরে ভৎসন, পরে প্রহার করিয়া শেষে ঘরে শিকল দিয়া শাস্তিকে কয়েদ রাখিতে আরম্ভ করিল। পীড়াপীড়িতে শান্তি বড় জ্বালাতন হইল। এক দিন দ্বার খোলা পাইয়া শাস্তি কাহাকে না বলিয়া গৃহত্যাগ করিয়া চলিয়া গেল । জঙ্গলের ভিতর বাছিয়া বাছিয়া ফুল তুলিয়া কাপড় ছোবাইয়া শান্তি বাচ্চ সন্ন্যাসী সাজিল। তখন বাঙ্গালা জুড়িয়া দলে দলে সন্ন্যাসী ফিরিত । শান্তি ভিক্ষা করিয়া খাইয়া জগন্নাথক্ষেত্রের রাস্তায় গিয়া দাড়াইল । অল্পকালেই সেই পথে এক দল সন্ন্যাসী দেখা দিল । শান্তি তাহাদের সঙ্গে মিশিল । তখন সন্ন্যাসীরা এখনকার সন্ন্যাসীদের মত ছিল না। তাহারা দলবদ্ধ, সুশিক্ষিত, বলিষ্ঠ, যুদ্ধবিশারদ, এবং অন্যান্য গুণে গুণবান ছিল। তাহার। সচরাচর এক প্রকার রাজবিদ্রোহী—রাজার রাজস্ব লুটিয়া খাইত। বলিষ্ঠ বালক পাইলেই তাহারা অপহরণ