পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ግ• আনন্দমঠ এই সকল তৈয়ার করিতে থাকিবে । তুমি সেখানে উত্তম লৌহনিৰ্ম্মিত এক ঘর প্রস্তুত করাইবে। সেখানে সস্তানদিগের অর্থের ভাণ্ডার হইবে। সুবর্ণে পূর্ণ সিন্দুকসকল তোমার কাছে একে একে প্রেরণ করিব। তুমি সেই সকল অর্থের দ্বারা এই সকল কাৰ্য্য নিৰ্ব্বাহ করিবে । আর আমি নানা স্থান হইতে কৃতকৰ্ম্ম শিল্পিসকল আনাইতেছি। শিল্পিসকল আসিলে তুমি পদচিহ্নে কারখানা স্থাপন করিবে। সেখানে কামান, গোলা, বারুদ, বন্দুক প্রস্তুত করাইবে। এই জন্য তোমাকে গৃহে যাইতে বলিতেছি।” মহেন্দ্র স্বীকৃত হইলেন। সপ্তম পরিচ্ছেদ মহেন্দ্র, সত্যানন্দের পাদবন্দনা করিয়া বিদায় হইলে, তাহার সঙ্গে যে দ্বিতীয় শিষ্য সেই দিন দীক্ষিত হইয়াছিলেন, তিনি আসিয়া সত্যানন্দকে প্রণাম করিলেন। সত্যানন্দ আশীৰ্ব্বাদ করিয়া কৃষ্ণাজিনের উপর বসিতে অনুমতি করিলেন। পরে অন্যান্ত মিষ্ট কথার পর বলিলেন, “কেমন, কৃষ্ণে তোমার গাঢ় ভক্তি আছে কি না ?” শিষ্য বলিল, “কি প্রকারে বলিব ? আমি যুহাকে ভক্তি মনে করি, হয়ত সে ভণ্ডামি, নয়ত আত্ম-প্রতারণা ।” সত্যানন্দ সন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন, “ভাল বিবেচনা করিয়াছ। যাহাতে ভক্তি দিন দিন প্রগাঢ় হয়, সে অনুষ্ঠান করিও । আমি আশীৰ্ব্বাদ করিতেছি, তোমার যত্ন সফল হইবে। কেন না, তুমি বয়সে অতি নবীন । বৎস, তোমায় কি বলিয়া ডাকিব, তাহ এ পর্য্যন্ত জিজ্ঞাসা করি নাই ।” -് নূতন সন্তান বলিল, “আপনার যাহা অভিরুচি, আমি বৈষ্ণবের দাসামুদাস।” সত্য। তোমার নবীন বয়স দেখিয়া তোমায় নবীনানন্দ বলিতে ইচ্ছা করে— অতএব এই নাম তুমি গ্রহণ কর। কিন্তু একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, তোমার পূৰ্ব্বে কি নাম ছিল ? যদি বলিতে কোন বাধা থাকে, তথাপি বলিও । আমার কাছে বলিলে কর্ণাস্তরে প্রবেশ করিবে না। সস্তান-ধৰ্ম্মের মৰ্ম্ম এই যে, যাহা অবাচ্য, তাহাও গুরুর নিকট বলিতে হয়। বলিলে কোন ক্ষতি হয় না। . শিষ্য। আমার নাম শাস্তিরাম দেবশৰ্ম্ম ।