তিনি নিউইয়র্ক হইতে প্রকাশিত একখানি উৎকৃষ্ট সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্র তাঁহার পীঠের নিমিত্ত নিয়মিতরূপে পাঠাইয়া দিবেন, একথাও এই পত্রে লিখিয়াছিলেন। এই বিষয়ের উল্লেখকালে তিনি স্বয়ং এক স্থলে বলিয়াছেন যে, “আমার কন্যা এইরূপ স্বপ্ন দেখিয়া তাহা আমার নিকট বিবৃত না করিলে, হয় ত নানা কার্য্যে আনন্দী বাঈকে পত্র লিখিবার কথা আমি ভুলিয়া যাইতাম।”
ভুজ নগরে অবস্থানকালে এই পত্র আনন্দীবাঈর হস্তগত হয়। আমেরিকার ন্যায় স্থানে এইরূপ একজন অকারণ-বন্ধু পাইয়া তাঁহার হৃদয়ে অতীব আনন্দ এবং ঈশ্বরের করুণায় প্রগাঢ় বিশ্বাসের সঞ্চার হইল। শ্রীমতী কার্পেণ্টারের সহৃদয়তার জন্য ধন্যবাদ দিয়া আনন্দী বাঈ তাঁহাকে এক পত্র লিখিলেন। এই সময় হইতে তাঁহারা পরস্পরকে প্রতিমাসে নিয়মিতরূপে পত্র লিখিতে লাগিলেন। এই সকল পত্রে উভয়েই স্ব স্ব দেশের সামাজিক আচার ব্যবহারাদির বিষয় পরস্পরকে আপন করিতেন। স্বজাতির ও স্বদেশীয় রীতিনীতির সম্বন্ধে আনন্দী বাঈর কিরূপ শ্রদ্ধা ছিল, এবং তিনি কিরূপ নির্ভীকতার সহিত তাহা বৈদেশিকদিগের নিকট স্পষ্টভাষায় ব্যক্ত করিতে পারিতেন, এই সকল পত্র হইতে, তাহা অবগত হইতে পারা যায়।
একখানি পত্রে আনন্দী বাঈ শ্রীমতী কার্পেণ্টারকে লিখিয়াছেন—“হিন্দুগণ সাধারণতঃ যেরূপ শান্ত প্রকৃতি ও সাত্ত্বিকভাবাপন্ন, ইউরোপীয়গণ সেরূপ নহেন। আমাদিগের (মহারাষ্ট্রীয়দিগের) মধ্যে পাশ্চাত্য দেশবাসীদিগের তুলনায় রোগের সংখ্যা ও কাম-