পাতা:আনন্দ-তুফান - প্রিয়নাথ চক্রবর্ত্তি.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

সূচনা।


 ইহা যদি স্বীকার্য্য হয়, তবে এই স্থানে বিবেচনা করিয়া দেখা উচিত যে, আমরা ‘নিজে’ কে? তাহা হইলে চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রকেই স্বীকার করিতে হইবে যে, আমরা (সৃষ্ট জীবমাত্রই) সত্যস্বরূপ, অনন্তশক্তি, অদ্বিতীয় ঈশ্বরের শক্তি-সঞ্জাত পদার্থ; বা (প্রকারান্তরে) স্বয়ং ঈশ্বর। অর্থাৎ সকলেই ‘এক’ বা সকলেই ‘আপনার’। তাহা হইলে আবার আমাদের এই জানিতে ইচ্ছা হয় যে,—তবে আমাদিগকে ‘আপন’ ও ‘পর’ পৃথক্‌ বোধ করায় কে?” চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই ইহার উত্তরে বলিবেন, ‘মায়া’[১]

 এখন আমাদিগকে অবশ্য ইহাও স্বীকার করিতে হইবে যে, আমরা এই ভব-কারাগারে আগমনপূর্ব্বক এই আত্ম-পর-পার্থক্যসাধিকা মায়ার বশবর্ত্তী হইয়া, প্রায় সমস্তই ‘পরের’ কার্য্য করিতেছি। এ অবস্থায় যদি আমরা এই ‘পরের’ কার্য্য হইতে কখনও একবার ‘অবকাশ’ পাই, তাহা হইলে ‘নিজের’ (নিজ আত্মার) উন্নতি-সাধক কার্য্য করাই আমাদের অবশ্য কর্ত্তব্য। আর ইতিমধ্যে যদি কেহ আপনার ‘নিজের কার্য্য’ সম্পূর্ণ করিয়া থাকেন, তবে তিনি স্বচ্ছন্দে আনন্দ উপভোগ ও বিতরণ করিয়া কালাতিপাত করিতে পারে।

 ভাই বঙ্গদেশবাসি! আমরা প্রায় সকলেই দুর্গতিনাশিনী, আনন্দময়ী দুর্গার এই শারদীয় মহাপুজোপলক্ষে এ সময় কিছু কালের জন্য পরের কার্য্য বা দাসত্ব হইতে ‘অবকাশ’ পাইয়াছি,


  1. ‘মায়া’ আমাদিগের আত্ম-পর ভেদ-জ্ঞান জন্মাইয়া দেয় কেন, তদ্বিবরণ “জীবন-পরীক্ষা” নামক গ্রন্থে সামর্থ্যানুরূপ প্রকাশিত হইয়াছে।