পাতা:আফগানিস্থান ভ্রমণ.djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩১

তারা যুবকের সাহায্যার্থে আসে এবং যখন টের পেল যুবকের মুখ থেকে মদের গন্ধ বেরিয়ে আসছে, তখনই তারা সরে দাঁড়াল। মাতালকে সাহায্য করা আর নরক-যাত্রার পথ পরিষ্কার করা একই কথা। সুতরাং কেউ তার কাছে থাকল না। পুলিশ ডাকা হ’ল। পুলিশ তাকে বেশ দু’ ঘা লাগিয়ে তার অজ্ঞান দেহটাকেই হাজতে নিয়ে পুরে রাখল। একটা সংজ্ঞাহীন লোককে এভাবে হাজতে নিয়ে যেতে দেখেও কেউ কোন প্রতিবাদ করল না।

 রাত্রেই মামুদের জ্ঞান হ’ল, কিন্তু তার শরীরে শক্তি ছিল না। ভেজা মেজেতে শুয়ে থাকল। সে ভাবছিল, কেন আমিনাকে সে বিয়ে করেছিল? আমিনা নির্দোষ বালিকা। তারই জন্য সে তার শিয়া পিতার গৃহ পরিত্যাগ করে একজন সুন্নি যুবককে বিয়ে করেছিল। যদি তাদের বিয়ে না হ’ত, তবে আমিনাকে তার পিতা পরিত্যাগ করতেন না, আমিনাও না খেতে পেয়ে আজ মৃত্যুর সম্মুখীন হ’ত না। রাত চারটার সময় মামুদ উঠে বসল। সে আল্লার দরগায় প্রার্থনা করল। প্রার্থনায় বলল, “হে আল্লা, আমি কোন পাপ করি নি, আমাকে বাঁচাও, আমার আমিনাকে রক্ষা কর।”

 পরের দিন সকালে মামুদকে কাজির এজলাসে হাজির করা হ’ল। চায়ের দোকানের মালিক সাক্ষ্যে বলল, “মামুদ মাতাল অবস্থায় চায়ের দোকানে প্রবেশ করার পরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমরা তাকে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার মুখে মদের গন্ধ ছিল; সেজন্য পুলিশে সংবাদ দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। হারামখেকোকে স্পর্শ করে কে নরকের পথ প্রশস্ত করবে বলুন, খোদাবন্দ (ধর্মাবতার)?”

 সাবাস্ সাবাস্ উচ্চ নিনাদ হ’ল।

 কাজি একরূপ চোখ বুজেই মামুদকে দু’মাসের সশ্রম কারাবাসের আদেশ দিলেন।

 মামুকে জেলে নেওয়া হ’ল। কাজি ভাবলেন—আপদ বিদায় হ’ল, যেরূপ শীত পড়েছে তাতে আরও একটু হারাম না খেলে শরীর রক্ষা করা যাবে না।