বাঙালী ডাক্তার আছেন। বহুদিন তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলিবার লোক পান নাই। তাই হাসপাতালের ডিউটি ফেলিয়া ছুটিয়া আসিয়াছেন—বাংলায় দু’টা কথা বলিয়া মনটা হালকা করিবেন। মাস্কাতের একজন শিক্ষিত ব্যবসায়ী জাহাজে আসিয়াছিলেন। পরনে আরবী ধরণের ঢিলা পোষাক। তাঁহার কাছ হইতে সেখানকার অনেক তথ্য জানা গেল। এখানে শরিয়তী আইন প্রচলিত। কেহ খুন করিলে আইনের বিধান মতো তাহাকে মৃত্যু বরণ করিতে হইবে। মাস্কাত ও ওমানের সোলতান সৈয়দ বিন তৈমুর। মাসকাত মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান সোলতানের ভ্রাতা। মেম্বর নিযুক্ত করেন সোলতান নিজে। সাধারণের তাহাতে কোন হাত নাই। এক আধটা স্কুল আছে। ব্রিটিশ ও আমেরিকান পরিচালিত হাসপাতাল আছে দু’একটা। ভদ্রলোক জাহাজ হইতে একটা পাকিস্তানী ‘গেহ্ (তরমুজ) ও একটা ‘বাত্তিখ্’ (খরমুজা) কিনিয়া নিয়া গেলেন।
গত মহাযুদ্ধের সময় জাপানী যুদ্ধ জাহাজ কলম্বো হইতে এই মাস্কাত পর্যন্ত আগাইয়া আসিয়াছিল। জাপানী সাবমেরিনের হাতে এখানে চারখানা ব্রিটিশ জাহাজ মারা পড়ে। মাস্কাতে একটা উঁচু ‘টাওয়ার’ জাহাজ হইতে চেখে পড়ে। ওটা পর্তুগীজ আমলের। ‘মাস্কাত’ শব্দের অর্থ পড়িয়া যাওয়া। শোনা যায়, পর্তুগীজ সাহেব সোলতানের পরমা সুন্দরী কন্যাকে টাওয়ারের মধ্যে আনিয়া বন্দী করিয়া রাখিয়াছিল। মেয়েটি ইজ্জত বাঁচাইতে