পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৪৮ আমার বোম্বাই প্রবাস ফুট দীর্ঘ । ইমারতখানি সমচৌকস ১৮,২২৫ ফুট, রোমনগরের পন্থিয়ন হইতেও বৃহত্তর । বাহিরের চারিকোণে চারিটি গবাক্ষময় মিনার। ইহার একটির সিড়ি ভাঙ্গিয়া ছতালা পৰ্য্যন্ত আরোহণ করিলে ছাদের উপর হইতে চতুর্দিকের শোভন দৃপ্ত সন্দর্শন করা যায়। ভূচর নরকীটের কি ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে । এই গুম্বজে প্রতিধ্বনি গ্যালরি (Whispering gallery ) এক চমৎকার জিনিস। তথায় প্রতিধ্বনির আর বিরাম নাই । একসীমায় কাণে কাণে কথা কহিলে সীমান্তর পর্য্যন্ত স্পষ্ট শুনা যায়। এককণ্ঠ বিনির্গত মুর হইতে শত শত কণ্ঠধ্বনির প্রতিধ্বনি হয়। দক্ষিণদ্বার হইতে সমাধি গৃহে প্রবেশ করিয়া এক প্রস্তর মঞ্চের উপর সুলতান মাহমুদ, তাহার মহিষী ও পুত্রদের গোরপ্রস্তর সকল দেখা যায়। দক্ষিণদ্বার নিকটস্থ প্রস্তরের উপর কতকগুলি পারস্ত লেখ আছে । তাহাতে মুলতান মাহমুদের স্বর্গারোহণের তারিখ পাওয়া যায়—তাহ ১০৬৭ অর্থাৎ ১৬৫৬ খৃষ্টাব্দ । এই সকল বৃহৎ প্রস্তরের ইমারত, ইহাদের শিল্প নৈপুণ্য দেখিয়া লোকের মনে সহজে কৌতুহল জন্মিতে পারে, কি উপায়ে কি কলকৌশলে এই সমস্ত কারখানার স্বষ্টি হইল, না জানি ইহাদের উপর কত মজুর মিস্ত্রী খাটিয়াছে—কত না অর্থ ব্যয় হইয়াছে। ইব্রাহিম রোজ নামক ইব্রাহিম বাদসার গোরস্থানে পারস্ত ভাষায় একটি শিলালেখ আছে, তাহাতে এই সকল বিষয়ের কিছু কিছু জ্ঞান লাভ হয়। সে লেখ এই – “মালিক সান্দাল দেড় লক্ষ নকবই হুন ব্যয় করিয়া অনেক পরিশ্রমে এই গোর মন্দির নিৰ্ম্মাণ করেন।” হুনের মূল্য ৭ শিলিং করিয়া হিসাব করিলে ৫২,৮১৬ পেও দাড়ায়, মোটামুটি ধর ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু এ হয়ত শুধু গুম্বজ নিৰ্ম্মাণের ব্যয়-সমুদয়টা ধরিতে গেলে এক কোটি মুদ্রারও অধিক হইয়া যায়। ঐ লেখে আরো আছে যে এই কাজে ৬,৫৩৩ লোক খাটিত, কাৰ্য্য শেষ হইতে ৩৬ বৎসর ১১ মাস ১১ দিন লাগিয়াছিল। এই লোক সংখ্যায় মুটে মজুর প্রভৃতি সাধারণ শ্রমজীবি সামিল কি না সন্দেহ। সম্ভবতঃ উহা শিল্পী রাজমিস্ত্রী প্রভৃতি উচ্চশ্রেণীর কারিগরের সংখ্যা নির্দেশক। তদ্ভিন্ন নিকৃষ্ট শ্রমজীবিদিগকে অন্ন বস্ত্র দিয়া ইচ্ছামত সংগ্রহ করা যাইত তাহার সন্দেহ নাই, নতুবা এই সকল ইমারত নিৰ্ম্মাণ কল্পনা করা দুঃসাধ্য। জীবিত থাকিতে থাকিতে আপনার সমাধি মন্দির প্রস্তুত করা, মুসলমানদের এক অদ্ভুত রীতি। হিন্দুর মৃতদেহ ভস্মসাৎ করিয়া মৃত্যুর স্মরণচিহ্ন পৰ্য্যন্ত বিলুপ্ত করিতে উৎসুক, মুসলমানদের বাসগৃহ অপেক্ষ প্রেতলিয়ের প্রতি অধিক মনোযোগ। সুলতান মাহমুদের পুত্র অলি আদিল সা গোলগুম্বজের সমম্পন্ধী এক গোর মন্দির নিজের জন্ত পত্তন করেন। তাহার ছায় পিতার গোরের উপর গিয়া পড়ে, এই তাহার - ইচ্ছ