পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


'\ , আমার বোম্বাই প্রবাস পদচ্যুত ও নির্বাসিত করিয়া স্বয়ং রাজ্যভার গ্রহণপূর্বক রাজ্যবিস্তারে ব্ৰতী হইলেন। ১৫৯৪ সালে তাহার ভ্রাত ইস্মায়েল বিদ্রোহী হইয় উঠেন। এই গোলযোগে আহমদনগর মুলতান বত্বান নিজাম স বিজাপুৰ আক্রমণ করিলেন কিন্তু যুদ্ধে জয়লাভ হইল না ; প্রত্যু ত এই যুদ্ধই তাহার রাজ্যনাশের মূল। যুদ্ধাবম্ভের অনতিকাল পরে বহ্রানের মৃত্যু হয়। র্তাহার পুত্রও রণক্ষেত্রে বিজাপুব সৈন্ত হস্তে নিহত হন ; আহমদনগরে ঘোর বিপ্লব বাধে । বহুনি নিজাম খার মৃত্যুর পর আহমদনগব দুই দলে বিভক্ত হয়, চাদবিবি তন্মধ্যে এক দলের অধিনায়িক ছিলেন। অপর দলের দলপতি মোগল সম্রাটের শরণাপন্ন হইয়া আকবরের পুত্র যুবরাজ মোরাদকে পত্র লেখেন । মোরাদ তখন গুজরাটে ছিলেন । মোগলের দক্ষিণাত্যে হস্তক্ষেপ করিবার অবসর অনেক কাল অন্বেষণ করিতেছিল, তাহার এই সুযোগ ছাড়িবার পাত্র নয়। সম্রাটের আবেদনে ক্রমে মোরাদ আহমদনগরের সম্মুখে সসৈন্ত উপনীত হইলেন । মোগল আক্রমণ হইতে স্বদেশ রক্ষার একজন প্রধান উদ্যোগী চাদবিবি। তিনি কবচ ধারণপূর্বক তরবার হস্তে স্বয়ং দুর্গপালদের মধ্যে উপস্থিত থাকিয়া তাহদের উৎসাহদান ও দুর্গরক্ষণের তত্ত্বাবধান করিতেছেন। তিনি আপন ভ্রাতুপুত্র বিজাপুর সুলতান ইব্রাহিমকে ডাকিয়া পঠাইলেন ; ইব্রাহিম আসিলেন বটে কিন্তু সময় মত আসিতে পারেন নাই । যখন আসিলেন তখন যুদ্ধ শেষ হইয়া গিয়াছে। চাদবিবির যত্ন ও চেষ্টায় মোগলের প্রথমবার অল্পে তুষ্ট হইয়া ফিরিয়া যায়। যুবরাজ প্রস্তাব করিলেন যদি বহুড় প্রান্ত (Berar) ছাড়িয়৷ দেওয়া হয় তাহা হইলে তিনি যুদ্ধে ক্ষান্ত দিবেন। চাদবিবি বিজাপুরের সাহায্য লাভে হতাশ হইয়া এই প্রস্তাবে অগত্যা সন্মত হইলেন । এবারকার মত যেন কোন প্রকারে নিস্তার পাইলেন, কিন্তু দুই বৎসর পরে আবার যথন মোগলেরা দেশ আক্রমণ করিলেন তখন আর শক্র-হস্ত এড়াইতে পরিলেন না। রাজ্ঞী দেশরক্ষণে প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিলেন কিন্তু তাহার সমুদায় চেষ্টা ব্যর্থ হইল। এদিকে বাহিরের শক্র, তাহার উপর আবার গৃহবিচ্ছেদ ; উপায়াস্তর না দেখিয়া মোগলদের সহিত সন্ধি সাধনের উদ্যোগ দেখিতেছেন এমন সময় সৈন্তের ক্ষেপিয়া উঠিল । একজন বিদ্রোহী সৈনিকের খড়গাঘাতে রাণী প্রাণ হারাইলেন ;–র্তাহার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আহমদনগর শত্রর হস্তে নিপতিত হইল । চাদবিবি ভারত-বীরনারীদের মধ্যে একটি রত্ন ; দাক্ষিণাত্যে র্তাহার নাম ও যশ চিরস্মরণীয় । দ্বিতীয় ইব্রাহিম শিল্পবিদ্যবিশারদ সুশিক্ষিত সুযোগ্য নরপতি ছিলেন। মহারাষ্ট্র ও পারস্য ভাষামিশ্রিত ব্ৰজভাষী সদৃশ ভাষার রচয়িত বলিয়। তিনি প্রসিদ্ধ। হিন্দুধৰ্ম্মের