পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস Stు প্রতি তাহার বিশেষ আসক্তি ছিল। জগদগুরু তাহার আখ্যা—লোকে তাহাকে ইব্রাহিম জগদগুরু বলিয়া মানে। বিজাপুর মুসলমানের বিশ্বাস এই যে, তিনি ইসলাম পরিত্যাগ করিয়া প্রকাগুরূপে হিন্দুধৰ্ম্মানুষ্ঠান করিতেন। তাহার সময়কার কোন কোন দলিলের উপর “শ্ৰীসরস্বতী প্রসন্ন” শিরোনামা দৃষ্ট হয়। ইব্রাহিমের মৃত্যুকালে বিজাপুরের পূর্ণ সৌভাগ্যের অবস্থা—রাজভাণ্ডার পূর্ণ-প্ৰজাগণ মুখসমৃদ্ধিসম্পন্ন—দুই লক্ষ পদাতিক ৮০ ০০ ০ অশ্বারোহী সৈন্তবল । ইব্রাহিমের পর মাহমুদ আদিল সা । মাহমুদের রাজত্বকাল চল্লিশ বৎসর। ইনি যুদ্ধে অনুরক্ত ছিলেন না, রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি সাধনে তৎপর ছিলেন । তাহার সময়ে বাপী, সরোবর, জলপ্রণালী সমস্ত রচিত হইয়া সহরের জলসৌকর্য্য সম্পাদিত হয়। জুম্মা মসজিদের সুবর্ণরঞ্জিত ভজনালয় তাহার রচিত। বিপুল কাষ্ঠস্তম্ভাবলম্বিত উচ্চ ছাদ, চিত্রিত প্রকোষ্ঠসমন্বিত আসার মহল তাহারই কীৰ্ত্তিস্তম্ভ। আর বিজাপুরের বিশেষ ভূষণম্পদ যে গোলগুম্বজ তাহ তাহারি সুযোগ্য সমাধি মন্দির। শিবাজী মাহমুদের রাজত্বকালে মহারাষ্ট্রীয় বীর শিবাজী আবিভূত হন। র্তাহার পিতা সাহাঙ্গী বিজাপুর সুলতানের অধীনে কৰ্ম্ম করিতেন। পিতার সর্ববাদিসন্মত রাজভক্তির আড়ালে এবং মাতার উৎসাহবাক্যতলে তিনি এক একটি করিয়া পাহাড় দুর্গ অধিকারপূর্বক বিস্তীর্ণ রাজ্যের পত্তন করিলেন। লোকে ভাবে যেন বিজাপুর রাজার হইয়া কাৰ্য্য করিতেছেন। তাহার নিগুঢ় অভিসন্ধি কেহ সন্দেহ করিতে না করিতেই তিনি বিস্তৃত প্রদেশ আত্মসাৎ করিয়া লইলেন। ১৬৪৬ সালে পুনার নিকটবৰ্ত্তী তোরণা দুর্গের অধিকার ও তন্নিহিত গুপ্তধন আবিষ্কার করিয়া অবধি তিনি বিজাপুর রাজ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিদ্রোহীচরণে প্রবৃত্ত হইলেন। কোকনস্থ কল্যাণ হইতে বিজাপুরে রাজস্ব লইয়া এক দল লোক আসিতেছিল, শিবাজী সে ধন লুণ্ঠন করিলেন এবং ক্রমে অন্তান্ত দুর্গ দখল করিয়া রাজ্যবিস্তার করিতে লাগিলেন । এই সকল কাগু দেখিযা রাজা তাহাকে রাজবিদ্রোহী বলিয়া স্থির করিলেন। সহাজী তখন কর্ণাটকে-র্তাহাকে বিজাপুরে অনাইয়া জেলখানায় বন্ধ করিয়া বলা হইল যে, তাহার পুত্র যতদিন ধরা না দেন ততদিন তাহার মুক্তিলাভ নাই। শিবাজী মোগল সম্রাটের নিকট আবেদন করিয়া অনেক কষ্টে পিতার মুক্তিসাধনে কৃতকাৰ্য্য চয়েন ও আবার পূর্ববং লুটপাটে রাজ্যবৃদ্ধি করিবার সন্ধি লাভ করেন। মাহমুদের রাজত্বকালে শিবাজীর এই কাণ্ড।—দ্বিতীয় আলি আদিল সার সময়ে তার দৌরাত্ম্য ক্রমিক বৃদ্ধি হইতে লাগিল। মোগল ও -? ९४