পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఆశీ আমার বোম্বাই প্রবাস প্রাপ্ত হওয়া যায়। কারেরি রাজদরবারে সম্রাটের সাক্ষাৎকার লাভ করেন । ঔরঙ্গজেব কৃশাঙ্গ, খৰ্ব্বকায়, বৃহন্নাসা, বয়োভারে অবনত, শুভ্রবেশ পরিহিত ও মুক্তাজড়িত জরির কিরীট বিভূষিত তীক্ষুবুদ্ধি সম্রাট। র্তাহার খামমুখে শুভ্র দাড়ী ফুটিয়া উঠিয়াছে। দরবার-তাস্তুর মধ্যে সুরঞ্জিত উচ্চ সিংহাসন-চারি কোণে চারিটি রজত স্তম্ভ—উঠিবার একটি রূপার পাদপীঠ । সম্রাট এই সিংহাসনে উপবিষ্ট, আমীর সভাসদের তাহার আশে পাশে বিনম্রভাবে উপবিষ্ট—দুইজন ভৃত্য চামর ব্যজন করিতেছে, আর একজন ছত্র ধারণ করিয়া দণ্ডায়মান। সম্রাট সহাস্তবদনে নিজহস্তে প্রজাদের আজী সকল গ্রহণ করিতেছেন—বিন চসমীয় পাঠ করিয়া আপন হাতে হুকুম লিখিতেছেন। কারেরি বলেন সম্রাটের সঙ্গে সৈন্তবল দশ লক্ষ পদাতিক—অশ্ব ৬০,০০০, মালবহনের জন্ত ৫০,০০০ উঃ আর হস্তী ৩• • • ; সেনানিবাস ত্রিশ মাইল বিস্তৃত। এতদ্ভিন্ন ব্যাপারী দোকানদার কারিগর কৰ্ম্মচারী প্রভৃতি লোক মিলিয়া জনসংখ্যা সৰ্ব্বশুদ্ধ ৫০ লক্ষ হইবে ; নানাবিধ খাদ্যদ্রব্য ও অন্তান্ত সকল প্রকার সামগ্ৰীসমাকীর্ণ সম্রাটের ক্যাম্প এক প্রকাণ্ড জঙ্গম পুরী বলিলেই হয়। হাট বাজার দোকানে ছয়লাপ । আপন আপন অনুচরবর্গের জন্ত প্রত্যেক আমীরের আলাদা আলাদা হাট বাজার । সম্রাট ও রাজাদের তাম্বু প্রায় তিন মাইল স্থান জুড়িয়া অবস্থিত ও বিহিত উপায়ে মুরক্ষিত ; তীর ধনুক বর্ষ তরবার পিস্তল বন্দুক—গুরু ও লঘু কামান এই সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র। গুরু কামানের উপর পোৰ্ত্ত গীস ওলন্দাজ জৰ্ম্মন ফরাসিস্ প্রভৃতি ইউরোপীয় অধ্যক্ষ সকল নিযুক্ত। বিদেশীগণ একবার মোগলের চাকরী গ্রহণ করিলে আর ছাড়িবার পথ পায় না-পলায়ন ভিন্ন অন্ত উপায় নাই । - এই এক দৃশু আর মারাঠী সেনাদের ধরণ দেখ। সহস্ৰ সহস্ৰ অশ্বারোহী সেন!— তাছাদের কোন নিয়ম মাই, বন্দেজ নাই—পূৰ্ব্ব সঙ্কেত অনুসারে হয়ত কোন বিজন প্রদেশে সম্মিলিত । সঙ্গে যৎকিঞ্চিং খোরাক ; ঘোড়ার জিনের উপর এক একটি কম্বল মাত্র সম্বল, আর লুটের মাল পুরিবার জন্ত এক একটি থলি। রাত্রে কোথাও বিশ্রাম করিতে হইলে ঘোড়ার লাগাম হাতে ধরিয়াই নিদ্রিত –দিবসে গাছতলায় কিম্বা কম্বলের আড়ালেই তাহার যথেষ্ট বিশ্রাম—রৌদ্রের উত্তাপে ক্ৰক্ষেপ নাই, কোমরে তরবার বাধা এবং অশ্বের সামনে ভূমিখনক এক একটি বল্লম । এই সব সমান্ত সরঞ্জাম লইয়া মারাঠী বীরের যুদ্ধ যাত্রায় বাহির হইতেন, মোগলদের অচল দলবল কিছুতেই তাহদের সঙ্গে পারিয়া উঠিত না। অনেক বৎসর যুদ্ধ সংগ্রামের পর মোগল সম্রাট আপনার ক্যাম্পেই বশী হইয়া পড়িলেন, মহারাষ্ট্র সেনাগণ মুমূর্ব সম্রাটের চতুর্দিকে বীরদৰ্পে মৃত্য করিতে করিতে মোগলদের নাজেহাল পিশেহাল করিয়া তুলিল ।