পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস *: বাসী পারসী। চতুর্থ ব্যারণেট করিমভাই ইব্রাহিম বোম্বাইবাসী মুসলমান, ১৯১০ সালে তাহার এই পদোন্নতি হয়। উল্লিখিত চিনুভাই মাধবলাল পঞ্চম বারণেট। ইহার পাঁচজনেই ব্যবসাদার ধনপতি - দানে মুক্তহস্ত। পাঁচজনেই বোম্বাই প্রেসিডেন্সির লোক । আশ্চৰ্য্য এই যে বোম্বায়ের কপালে এই স্পৃহনীয় রাজটীকা পড়িয়াছে, এ পর্য্যন্ত ঐ প্রেসিডেন্সির বাহিরে যায় নাই । মেরি কাপেণ্টার অামি আহমদাবাদ যাইবার fz "Ea Rinotifõ Miss Mary Carpenter আমাদের বাড়ী আসিয়া উপস্থিত। ব্রিষ্টল নগর তাহার সহিত আমার প্রথম পরিচয় হয়। রাজা রামমোহন রায় তাহার শেষ জীবনে কর্পেণ্টার পরিবার মধ্যে বাস করেন এবং যখন তিনি রোগাক্রান্ত হইয়া মুমুঘু হইয়া পড়িলেন তখন তাহদের স্ত্রীপুরুষ সকলে মিলিয় তাহার সেবাশুশ্রুষায় কায়মনে তৎপর ছিলেন । সে সময়কার কথা কুমারী কাপেণ্টার তাহার "Last days of Raja Rammohan Ray” atto &oto কৰিয়াছেন। রাজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ তা হইয়া অবধি দেশের লোকের প্রতি র্তাহার একটা টান জন্মে। আমি ও আমার বন্ধু মনোমোহন ব্রিষ্টলে তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে যাই, তিনি সাদরে আমাদের অভ্যর্থনা করিলেন। ভারতবর্ষের প্রতি র্তাহার আন্তরিক অনুরাগ দেখিয়া আমরা প্রীত হইলাম ও আমাদের দেশের তখনকার সামাজিক অবস্থা তাহাকে ভাল করিয়া বুঝাইয়া দিবার চেষ্টা করিলাম। এই সকল বিষয় লইয়া তাহার সহিত আমাদের অনেক কথাবাৰ্ত্ত হইত। তিনি এদেশে আসিবার প্রবল ইচ্ছ। জানাইলেন। তখন তিনি তাহার মধ্যবয়স পার হইয়াছেন ; ঐ পরিণত বয়সে এদেশে আসা তাহার পক্ষে কষ্টকর হইবে, এই বলিয়া অনেকে তাহার মতি ফিরাইবার চেষ্টা করিত কিন্তু কিছুতেই তাহার মন বিচলিত হয় নাই। অল্পকালের মধ্যেই তাহার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হইল। তিনি বোম্বায়ে আসিয়া আমাদের আহমদাবাদ ভবনে কিছুকাল অতিথি হইয়া রহিলেন । নাগরিকের সাধ্যমত র্তাহার অাদরসৎকারে তৎপর হইল । র্তাহার সহিত পরিচিত হইতে সকলেই ব্যগ্র, সকলেই তাহাকে নিজ নিজ বাটীতে আমন্ত্রণ করিয়া লইয়। যাইতে উৎসুক । একজন অহেলাবিলাতি রমণী, এদেশ সম্বন্ধে যার কেবল পুথিগত বিছা, তাহার নবীন চক্ষে আমাদের দেশীয় ভাব কেমন লাগে স্থানে স্থানে তাহার নিদর্শন পাইতাম। তাহাকে সেখানকার দেবালয় সকল দেখিতে লইয়া যাইতাম, তিনি ঠাকুর দর্শন করিয়া বিমৰ্ষভাবে ফিরিয়া আসিতেন—“বুৎপরস্ত” ভারতবর্ষ দেখিয়া তাহার মনে যেন কণ্টক বিদ্ধ হইত। কোন হিন্দু পরিবারের মধ্যে গিয়া বাড়ীর २२ ।।