পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮২ অামার বোম্বাই প্রবাস বাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে। তথায় পুরোহিত তাহাদিগকে গণপতি পূজা, করাইয়া বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন । ইহার নাম মাত্রা । এইরূপ শুনা যায় যে, কণী জাতির মধ্যে অজাত সন্তানদিগেরও বিবাহের সম্বন্ধ কখন কখন স্থির হইয়! থাকে। দুই প্রতিবেশীর নিজ নিজ পত্নী গর্ভবতী হইলে তাহার। এইরূপ যুক্তি করে যে, তোমার পুত্র আমার কন্যা, কিম্বা আমার পুত্র তোমার কন্য হইলে তাহদের পরস্পর বিবাহ হইবে । এইরূপ ধাৰ্য্য হইলে সত্য সত্যই যদি এক স্ত্রীর কন্যা ও অপরের পুত্র জন্মে ত অঙ্গীকার মত উপযুক্ত সময়ে তাহদের বিবাহ দেওয়া হয় । সকলের কুল সমান নহে। পূৰ্ব্বপুরুষের কৃতি ও মুখ্যাতিবশতঃ কোন কোন ংশ বিশেষ গৌরবের পাত্র হইয়াছে। এক্ষণে অনেকটা জন্মভূমির উপর বংশমর্য্যাদা প্রতিষ্ঠিত দেখা যায়। আহমদাবাদের আদিমবাসী কণবীগণ কুলশীলে শ্রেষ্ঠরূপে প্রখ্যাত । কুলীনের সহিত কন্যার কিসে বিবাহ হয় ইহারই উপর পিতামাতার বিশেষ লক্ষ্য । নীচকুলে কস্তাদান মহা অপমানের বিষয়, কুলীন যদি হতশ্ৰী লা বিগত-যৌবন হয় তথাপি সে প্রার্থনীয়। ৫০ বৎসর বয়স্ক কুলীনের সঙ্গে তাহারা দশম বর্ষীয় বালিকার বিবাহ দিতে কুষ্ঠিত হন না। উচ্চ কুলের বর পাইতে হইলে অনেক অর্থের প্রয়োজন এবং বিবাহের অনুষ্ঠানেও বিস্তর ব্যয় । এই হেতু কুলাভিমানী নিধন কণবী এবং রাজপুতদের মধ্যে কন্তহত্যা এত প্রচলিত ছিল। কষ্ঠ ভূমিষ্ঠ হইবামাত্র তাহাকে এক দুগ্ধপূর্ণ পাত্রে ফেলিয়া দিয়া পিতামাত কন্যাদায় হইতে নিস্কৃতি পাইতেন, এই প্রথার নাম ‘দুগ্ধপীতি’ । ইহা বলা বাহুল্য যে ইংরাজ রাজ্যে এ নিয়ম এক্ষণে সতীদাহ ও অন্তান্ত নিষ্ঠুর প্রথার স্তায় রাজশাসনে বিলুপ্ত হইয়াছে। বর নীচবর্ণ হইলে তাহাকে টাকা দিয়া কন্যা ক্রয় করিতে হয়। অর্থের অভাবে আপন পরিবারস্থ কোন কস্তার বিনিময়েও কন্যা পাওয়া যায়। মনে কর রণছোড়ের এক ভগিনী ও দাজীর একটি কন্ত আছে । রণছোড় দাজীর ভ্রাতার সঙ্গে আপনার ভগিনীর বিবাহ দিয়া দাঙ্গীর কস্তাকে বিনিময়ে পাইতে পারেন। এইরূপ তিন ভ্রাতার তিন ভগিনী থাকিলে তাহারা প্রত্যেকে আপন আপন ভগিনীর বিনিময়ে এক এক স্ত্রী পরিগ্রহে সমর্থ হয় । এইরূপ বিবাহকে সটা বিবাহ বলে । কণবীদের মধ্যে স্ত্রী পুরুষ উভয়েই পরম্পরের সম্মতিক্রমে বিবাহ বন্ধন হইতে বিযুক্ত হইতে পারে। স্বামীকে অর্থলালসায় বশ করিতে পারিলে স্ত্রী আপন অভিলষিত নায়কের নিকট গমন করিতে সমর্থ হয়। স্বামীর অভিমতি ভিন্ন পরপুরুষের সহিত সহবাস করিলে অনেক সময় স্বামী ক্রুদ্ধ হইয়া ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অভিযোগ উপস্থিত