পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস ১৮৭ প্রতিচ্ছবি বলে আমার মনে হয় ; গুরুকুলে অধ্যয়নের যে উপকারিত এর ভিতরে তা কতক অংশে লাভ করা যায়। এই কলেজের বিশেষত্ব এই যে, এর যে কুড়ি জন অধ্যাপক আছেন তারা সবাই আপন আপন ক্ষেত্রে সুপণ্ডিত, অথচ প্রত্যেকে আপনার যৎসামান্ত গ্রাসাচ্ছাদনের উপযোগী সামান্ত বেতনেই সস্তুষ্ট । এরা সকলেই কুড়ি বৎসর কাল স্বল্প বেতনে অধ্যাপন-কার্য্যে প্রতিশ্রুত । কলেজটি প্রেসিডেন্সির অন্তান্ত কলেজের তুলনায় কোন অংশেই হেয় নয়-এর ছাত্রসংখ্যা নুনাধিক ৯৫০ । অনেকানেক ছাত্র কলেজ সংলগ্ন হোষ্টেলে বাস কবে—অধ্যাপক কানিটকর তাদের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত । আশপাশে ভূমির অভাব নাই। তাতে ক্রিকেট, ফুটবল প্রভৃতি খেলার জন্তে ক্রীড়াক্ষেত্র রয়েছে--ত ছাড়া বাকী জায়গায় ছয়জন অধ্যাপকের বাসগৃহ নিৰ্ম্মিত হয়েছে এবং উদ্ভিদতত্ত্ব শেখবার জন্তে একটি ছোটখাট বাগান আছে। এই সকল পবিত্র চরিত্র সদগুরুর সহবাসলাভ বিদ্যার্থীদের সামান্ত লাভ নহে । অধ্যাপকদের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত ছাত্রদের চরিত্র গঠনে বিশেষ কাৰ্য্যকর হওয়া অবশ্যম্ভাবী। ছাত্ৰগণ যাতে সংযম অভ্যাস করতে পারে, আত্মনির্ভর শিক্ষা করতে পারে, সে বিষয়ে অধ্যাপকদের বিলক্ষণ দৃষ্টি আছে। ছাত্রজীবনের যা কিছু প্রয়োজন ত যোগাবার ভার তাদের নিজেদের হাতেই অপিত—তাদের আপন আপন কাজকম্মের ব্যবস্থ। আপনাদেরই করে নিতে क्षु ! একটি ব্যায়াম-সভা তাদের হাতে ভালরূপই চলছে। তাদের পুস্তকালয় পাঠগৃহ তার নিজেদের ভিতরেই দেখে শুনে পরিচালন করছে। বোলপুর বিদ্যালয়ের কার্য্যব্যৱস্থাও কতকটা এইরূপ। Times of India পত্রের পুণার সংবাদদাতা এই কলেজ সম্বন্ধে লিখছেন— “ইউরোপে শিক্ষাশাস্ত্রের যেমন উন্নতি হইতেছে, সেই উন্নতির অাদর্শে ফরগু্যসন কলেজে শিক্ষার নিয়মাবলী প্রস্তুত হইতেছে। ইহা ক্ষুদ্র স্কুল নহৈ কিন্তু বাস্তবিক একটা বড় কলেজ.। শুধু পুথিগত বিষ্ঠা অর্জন করাই ইহার লক্ষ্য নহে ; কিন্তু ছাত্রদের চরিত্র গঠনের প্রতি অধ্যাপকদের বিশেষ মনোযোগ দৃষ্ট হয়। এই কলেজ পরিদর্শন করিলে মনে হয় যেন পাশ্চাত্য বড় বড় ইউনিবসিটির উচ্চশিক্ষার বিশুদ্ধ বায়ুসেবন করা যাইতেছে। এই প্রসঙ্গে বলা যাইতে পারে যে, এই কলেজে এইক্ষণে পনর জন ছাত্রী অধ্যয়ন করিতেছে । তাহদের জন্ত একটি স্বতন্ত্র হোষ্টেলের বন্দোবস্ত করা হইতেছে।” এঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভারতবর্ষে এঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার যে সকল স্থান আছে তার মধ্যে পুণা-এঞ্জিনিয়ারিং কলেজ একটি প্রসিদ্ধ। এই কলেজের অধীনে ছুতার, কামার ও অর আর বড় বড়