পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অামার বোম্বাই প্রবাস i ২০ত সাহসিক কার্য্যের আশাতীত ফল লাভ হইল। মোগল সৈন্তগণ আপনাদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা সন্দেহ করিয়া ছড়িভঙ্গী হইয়া পড়িল । ইহার পর সায়েস্তা খা আর মাথা তুলিতে পারিলেন না। শিবাজীর সাহস এমনি বাড়িয়া উঠিল যে কিছুকাল পরেই তিনি চতুঃসহস্ৰ অশ্বারোহীসহ হঠাৎ মুরাটে উপস্থিত হইলেন। স্বরাট তখন বিদেশীয়দের বাণিজ্যক্ষেত্র ছিল। ছয় দিন ধরিয়া ইচ্ছামত নগর লুণ্ঠন করিয়া অগাধ ধনরত্বে তিনি তাহার রায়গড় কেল্লার ধনাগার পূর্ণ কবিলেন । এই আক্রমণকালে ইংরাজের অতুল বিক্রম ও সাহসের সহিত আপনাদের কুঠী রক্ষা করিয়াছিলেন, কাহার সাধ্য ব্ৰিটিষ-সিংহের গহবরে প্রবেশ করে ! আশচর্য্য পলায়ন এই সকল ঘটনার কিছু পরেই দেখিতে পাই যে শিবাজী মোগল-সম্রাট ঔরঙ্গজীবের কুহকে পড়িয়া দিল্লীতে বন্দীকৃত হইয়াছেন । মোগল সেনাপতি জয়সিংহের সহিত মিলিয়া তিনি বিজাপুর আক্রমণ করেন । এই ব্যাপারে মারাঠীরা এরূপ বীরত্ব প্রকাশ করিয়াছিল যে, দিল্লীশ্বর সন্তুষ্ট হইয়া শিবাজীকে স্বহস্তে অভিনন্দন পত্র লিখিয়া সেই সঙ্গে তাহাকে দিল্লীতে আমন্ত্রণ করিয়া পাঠান। শিবাজী স্বীয় পুত্র শম্ভোজীকে লইয় দিল্লী যাত্রা করেন। গিয়া দেখেন, যাহা ভাবিয়াছিলেন তাহ কিছুই নয়, যেরূপ মানমর্য্যাদা পাইবার আশা ছিল তাহ পাইলেন না। রাজদরবারে তৃতীয় শ্রেণীর সর্দারদের সহিত একাসনে বসিতে হইল, বাদসা তাহার প্রতি ক্ৰক্ষেপও করিলেন না, এইরূপ ব্যবহারে শিবাজীর মনে এমনি মৰ্ম্মান্তিক আঘাত লাগিল যে, তিনি সেইখানেই মূৰ্ছিত হইয় পড়িলেন। বাসায় গিয়া দেখেন তাহার গৃহের চারিদিকে সিপাই সন্ত্রীর পাহার, পলাইবার পথ নাই। তিনি তখন বুঝিতে পারিলেন দিল্লী আসিয়া ভাল কাজ করেন নাই, পলাইবার পন্থা দেখিতে লাগিলেন। তিনি পীড়ার ছল করিয়৷ শয্যাগত রহিলেন । কয়েকজন বৈদ্য র্তাহার চিকিৎসা করিতে অসিত, তাহদের দিয়া বাহিরের মিত্রবর্গের সহিত ষড়যন্ত্র করিবার সুযোগ হইল। তিনি আর একটা ফন্দী করিলেন । ফকীর কাঙ্গালীদের মিষ্টান্ন ও আর অপর দ্রব্য বিতরণ করা নিত্য কৰ্ম্মের মধ্যে র্তাহার এক কাজ হইল, ঐ সকল সামগ্ৰী বড় বড় চুবড়ী করিয়া পাঠান হইত। এইরূপে কিছুদিন যায়, একরাত্রে তিনি নিজে একটা চুবড়ীর মধ্যে লুকাইয় পুত্রটিকে আর একটায় পুরিয়া দুই বাহকের স্কন্ধে বাহির হইলেন, দ্বারপালের অভ্যাসবশতঃ ওদিকে বড় লক্ষ্য করিল না। র্তাহার শয্যায় একজন ভৃত্যকে রাখিয় দিলেন, 'অনেকক্ষণ