পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাক্ট প্রবাস 9 ، ہلا جا বিদেশীদিগকে বহিষ্কৃত করিয়া অক্ষয় কীৰ্ত্তি উপার্জনের এই অবসর। শুষ্ক তরুমূলে কুঠারাঘাত কর, শাখা সকল আপন হইতেই পড়িয়া যাইবে।” তাহার উৎসাহ বাক্যে সাহুর চিত্ত পিতামহোচিত জলন্ত উৎসাহে ক্ষণকালের নিমিত্ত উত্তেজিত হইল। তিনি উত্তর করিলেন, “পিতার তুমি যোগ্য পুত্র, তুমিই স্বহস্তে মহারাষ্ট্র জয়ধ্বজ হিমালয় বক্ষে নিখাত করিবে। বাজিরাওয়ের বলবীৰ্য্যে মারাঠা রাজ্য বিপুল বিস্তার লাভ করিল। পনর বৎসরের মধ্যে তিনি বাদসাহী মুলুক হইতে মালব ছিনিয়া লন এবং বিন্ধ্যাচলের উত্তর পশ্চিম নৰ্ম্মদ হইতে চম্বল পর্য্যস্ত রাজ্য বিস্তার করেন। ১৭৩৯ সালে পোৰ্ত্ত,গীসদের নিকট হইতে বাসন অধিকার করেন। এই সকল দেখিয়া মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপর ইংরাজদের কটাক্ষ পড়ে। বাসীন বিজয়ানন্তর ইংরাজের সাহু রাজার নিকট দূত প্রেরণ করেন। দূতের প্রতি উপদেশ এই “রাজসভায় বাজিরাওয়ের শত্র আছে কি না সন্ধান লইবে । তাহার বিরুদ্ধে শক্রদলের ঈর্ষ জালাইয়া দিবার সুযোগ পাইলে অমন সুবিধা যেন ছাড়া না হয়, কিন্তু সাবধান, দেখিবে তিনি যেন আমাদের শক্ৰ হইয়া না দাড়ান।” সে যাহা হউক, দৌত্য সফল হইল। ১৭৩৯ সালে পেশওয়ার সহিত সন্ধিবন্ধনে মহারাষ্ট্রে ইংরাজ বাণিজ্য প্রমুক্ত হইল। এই সন্ধির এক বৎসর পরে বাজিরাওয়ের মৃত্যু হয় । বাজিরাও রূপবান, বীৰ্য্যবান, অমায়িক, সরলান্তঃকরণ ছিলেন। যুদ্ধযাত্রাকালে তিনি বীরেচিত কঠোর ব্রত পালনপূৰ্ব্বক আড়ম্বরশুষ্ঠ সহজ ভাবে চলিতেন। তাহার চরিত্র সম্বন্ধে একটা গল্প আছে । র্তাহার সহিত নিজাম-উল-মূলকের প্রথম যুদ্ধারম্ভে নিজাম একজন সুবিখ্যাত চিত্রকরকে ডাকাইয়া আদেশ করেন, “বাজিরাওকে গিয়াই যেভাবে দেখিবে সেই ভাবে উপহার ছবি তুলিয়া আনিবে।" চিত্রকর দেখিলেন, বাজিরাও বল্লম স্বন্ধে দুই হাতে জুয়ারীর দানা ভাঙ্গিয়া চিবা তে, চিবাইতে অশ্বপৃষ্ঠে সামান্ত সেনার মত চলিয়াছেন, এই ভাবে তাহার ছবি তোলা হইল । বাজিরাওয়ের তিন পুত্র, তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠ বালাজী তাহার উত্তরাধিকারী। র্তাহার দ্বিতীয় পুত্র রঘুনাথ রাও (রাবোৰ ) মহারাষ্ট্রে যে অপূৰ্ব্ব নাট্যাভিনয় করিয়া গিয়াছেন তাহাই রাজ্যনাশের মূল । রাখোবার পুত্র দ্বিতীয় বাজিরাও পিতার কার্য্য শেষ করিয়া রাজ্যের সমাধি স্বহস্তে প্রস্তুত করেন । নাম সাহেব বালাজীর অপর নাম নানা সাহেব । নানার রাজত্বকালে মহারাষ্ট্রবল মোগল রাজ্যে প্রবেশ করিয়া ত হার হৃৎকম্প উৎপাদন করে। ১৭৪১-৪২ সালে নাগপুর শাখার