পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার লোম্বাই প্রবাস ২১৯ ভ্রাতুপুত্রের অনিষ্ট সাধনের উপায় দেখিতে লাগিলেন। সেনাদের ঘুম দিয়ে বশ করা র্তাহার প্রথম চেষ্টা। হঠাৎ একদিন গোল উঠিল যে পেশওয়ার সৈন্তদল ক্ষেপিয়া উঠিয়াছে। নারায়ণরাও তখন প্রাসাদে নিদ্রিত ছিলেন। বিদ্রোহী দলের নেতা সমরসিংহ, তুলাজী পেশওয়ার নামক রাঘোবার অনুচর সমরসিংহের সহযোগী। বিদ্রোহীগণ সম্মুখের দ্বার ছাড়িয়া অন্ত দ্বার দিয়া প্রাসাদে প্রবেশকরতঃ পেশওয়ার শয়ন-গৃহের দিকে ধাবিত হইল। নারায়ণরাও তাহদের গোলমাল শ্রবণে ভীত হইয়া কাকার গ্রকোষ্ঠে প্রবেশ করিলেন—সমরসিংহ তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। যুবক কাকার পায়ে কাদিয়া পড়িয়া কাতরস্বরে প্রাণ ভিক্ষ চাহিল। রাঘে বা সমরসিংহকে ক্ষণস্ত হও বলিয়া অনুরোধ করিলেন কিন্তু সে অনুরোধ শোনে কে ? ভূতকে বোতল হইতে ছাড়িয়া দিয়া এখন কি তাহাকে শাস্ত রাখা যায় ? সমরসিং উত্তর করিল—“এতদূর অসিয়া কি আমি নিজেই মরিতে যাইব ? ছাড়িয়া দেও নতুবা তুমিও মারা পড়িবে।” রাখোবা ছাড়াইয়া ছাতে গিয়া লুকাইয়া রহিলেন। নারায়ণরাও পলায়নোদ্যত কিন্তু পাষণ্ড তুলাজী তাহার পা টানিয়া তাহাকে ধরাশায়ী করিল। এমন সময় চাপাজী নামক একজন বিশ্বাসী রাজভূত্যের প্রবেশ । তাছার হাতে যদিও কোন অস্ত্রশস্ত্র নাই—সে দৌড়িয়া গিয়া তাহার প্রভু ও অস্ত্রধারীদের মধ্যে ব্যবধান হইল। তাহাকে দেখিয়া নারায়ণরাও তাহার গলা জড়াইয়া ধরিলেন-চাকর মুনিব দুজনেই নরাধম নিষ্ঠুর হস্তারকদ্বয় কর্তৃক নিহত হইল । 尊 রাধোবা এই হত্যাকাণ্ডে সংলিপ্ত কিনা--তাহার কোন প্রমাণ ছিল না—রামশাস্ত্রীর উপর অনুসন্ধানের ভার দেওয়া হইল। রামশাস্ত্রী দ্যায়বান সত্যনিষ্ঠ স্থবিজ্ঞ বিচারপতি —পুণ দরবারে বশিষ্ঠস্বরূপ ছিলেন। অনুসন্ধানে তিনি শেষে জানিতে পারিলেন যে রাঘোৰ নারায়ণরাওয়ের বধের আদেশ দেন নাই—ৰ্তাহাকে ধরিবার অনুমতি দিয়াছিলেন মাত্র । তাহার আজ্ঞাপত্রে “ধরিবে” এই কথা বদলাইয়া “মারিবে” কথা কে একজন বসাইয়া দিয়াছে। রাঘোবপত্নী (Lady Macbeth) আনন্দীবাই এই কাণ্ডের মূল কারণ বলিয়া লোকের বিশ্বাস । এই ঘটনার কতকদিন পরে রাঘোব রামশাস্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত কি ?” শাস্ত্রী মহাশয় উত্তর করিলেন, “তোমার নিজের প্রাণ উৎসর্গ ভিন্ন ইহার প্রায়শ্চিত্ত নাই। তোমার জীবনে আর মুখ নাই—তোমার এ রাজ্যের কল্যাণ নাই। তুমি যতদিন কৰ্ত্ত থাকিবে ততদিন আমি এ সরকারে চাকুরী করিব না-আর এমুখে হইব না।” শাস্ত্রী তাহার বচন রক্ষা করিলেন। সেই অবধি তিনি রাজকাৰ্য্য পরিত্যাগপূর্বক পুণ ছাড়িয়া বিজন গ্রামে একাস্তে অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন।