পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস 之○> ভ্রাতা তাহদের পরস্পর সৌহাৰ্দ্দবন্ধন স্থাপন করিলেন, তার পর দিনেই মহলাররাও মিদিয়ার সৈন্তহস্তে নিহত হন। যশবন্তরাও মহলাররাওয়ের পক্ষ ছিলেন, তিনি এই গোলযোগে পলায়ন করিয়া নাগপুর রাজার শরণাপন্ন হইলেন। সেখানে শরণ লাভ দূরে থাকুক তাহার ভাগ্যে কারালাভ ঘটিল—দেড় বৎসর পরে বহুকষ্ট্রে পলায়নে মুক্তিলাভ করেন। সেই সময় হইতে তিনি তাহার ভ্রাতুপুত্র খণ্ডেরাওয়ের নামে সৈন্য ংগ্ৰহ করিতে আরম্ভ করিলেন। ক্রমে মারাঠী, রাজপুত, পাঠান, ভিল, পিণ্ডারী প্রভৃতি লোক হইতে ফৌজ একত্রিত করিয়া তিনি তাহদের দলপতি হইয়৷ দাড়াইলেন। পরে ইউরোপীয় রণপণ্ডিতদের সাহায্যে এই ফৌজ হইতে রণদক্ষ শিক্ষিত সৈন্যদল প্রস্তুত করিয়া লষ্টলেন । আমীর খা নামক জনৈক মুসলমান সর্দারের সাহায্য পাইয় তাহার বল পুষ্ট হইল ; দুইজনে মিলিয়া সিদিয়ার রাজ্যে ঘোরতর লুটপাট অত্যাচার আরম্ভ করিয়া দিলেন। পরিশেষে ১৮০২ সালে পুণাগগনে ধূমকেতুর ন্যায় সহসা সসৈন্ত অধিভূত ছুইলেন। র্তাহার পুণা আক্রমণের এক বিশেষ কারণ উপস্থিত হইল। তাহার ভ্রাতা বিঠোজী কোন এক বিদ্রোহাচরণে ধরা পড়িয়া দণ্ডনীয় হন, বাজীরাও তীহাকে হাতীর পায়ে বাধিয়া নির্দয়রাপে তাহার প্রাণদণ্ড বিধান করেন । সিদিয়ার রাজ্য লুণ্ঠন স্থগিত রাখিয়া যশবন্তরাও প্রতিশোধ তুলিবার মানসে পুণার দিকে ধাবমান হইলেন । র্তাহার গতিরোধ করিবার জন্ত পেশওয়া এবং সিন্দে উভয়ে আলিবেল ঘাটে সৈন্ত প্রেরণ করিলেন, তিনি আর এক দিক দিয়া ঘুরিয়া সৈন্তহস্ত এড়াইয়া পুণার দেড় ক্রোশ পূৰ্ব্বে আসিয়া তাম্বু গাড়িলেন। দুই দিন পরে দুই সৈন্তের সংঘর্ষণ । ঘোরতর সংগ্রামের পর যশবন্ত জয়ী হইলেন। সিন্দিয়া কামান ও অল্পষ্ঠ জিনিষপত্র ফেলিয়া রণক্ষে এ হইতে পলায়ন করিলেন । পুণার পথ উন্মুক্ত । পর দিন ব্ৰিটিষ রেসিডেণ্ট কর্ণল ক্লেজ সাহেব হোলকরের সহিত সাক্ষাৎ করিতে যান। গিয়া দেখেন কর্দমাক্ত ক্ষত বিক্ষত শরীরে অন্ধবীর * এক ক্ষুদ্র তাম্বুতে শয়ন, ঠিক যেন শরশয্যাগত ভীষ্মদেব। হোলকর কর্ণল সাহেবকে পুণায় থাকিবার জন্ত বিস্তর অনুরোধ করিলেন, তাহাকে মধ্যস্থ মানিবার ঔৎসুক্য দেখাইলেন, কিন্তু তিনি সে অনুরোধ না মানিয়া কয়েক দিবসের মধ্যে পুণা ছাড়িয়া চলিয়া গেলেন। হোলকর তখন স্বীয় অভীষ্ট সিদ্ধির পূর্ণ অবকাশ পাইলেন এবং মনের সাধে নগর লুণ্ঠন করিয়া লইলেন। বাজিরাও হোলকরের বিজয়বাৰ্ত্তা শুনিয়া প্রাণভরে পলায়ন করিলেন। পুণা হইতে

  • ইতিপূৰ্ব্বে ঘটনাক্রমে দৈবাং বলুক ছুটিয়া যাওয়াতে একচক্ষু হারাষ্ট্রর ছিলেন।