পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস २७१ হইয়া উঠিল। সেই গোলযোগে একজন বিদ্রোহী সৈনিকের হস্তে রাণী প্রাণ হারাইলেন ; মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আহমদনগর শক্রহস্তে নিপতিত হইল । চাদবিবি ভারতবীরনারীদের মধ্যে একটি রত্ন, তাহার ভ্রাতুপুত্র বিজাপুরের সুলতান ইব্রাহিম চাদবিবির নিকট অনেক বিষয়ে ঋণী—র্তাহার কৃতজ্ঞতার চিহ্নস্বরূপ তিনি সুলতানার নামে যে একটি স্তুতিগীত রচনা করেন তাহ এই স্থলে ভাষান্তরে উদ্ধত করিয়া দিলাম । সুরকাননে অপ্সরা—আছে নান, মরভবনে রূপবতী—কত আছে । বিজাপুরের রাণী চাদ সুলতান, রূপে সবাই হার মানে—র্তার কাছে। সদা সাহস ধ্রুব তার-ঘোর রণে, গৃহে শাস্তি দয়া যেন-শোভমান । আহা, করুণা কত তার—দীনজনে, বিজাপুরের রাণী চাদ সুলতান । যথা ফুলের মাঝে চাপ—সেব মানি, তরু মাঝারে সহকার –সবে জিতে । তথা রাণীর মাঝে রাণী—চাদ রাণী, কেবা পারে গো তার গুণ বাখানিতে ॥ যিনি জননী সম স্নেহে—স্বভবনে, মোরে বিদেশে পালিলেন—সযতনে। আমি দ্বিতীয় ইব্রাহিম—স্মরি সে কথা, র্তার চরণে সপিলাম— স্মরণ গাথা ॥ আহমদনগর মোগল রাজ্যভুক্ত হইল কিন্তু তাহা দিল্লীশ্বরের হস্তে অধিককাল স্থায়ী হয় নাই। দিল্লীর অবসাদের সঙ্গে সঙ্গে তাহারও ভাগ্য পরিবর্তন হইল। মোগল হইতে মারাঠী অধিকার, পরে যখন পেশওয়াকে রাজ্যচ্যুত করিয়া ইংরাজের পশ্চিম ভারতবর্ষের অধীশ্বর হইলেন, তখন আহমদনগরও ইংরাজরাজ্যে আসিয়া মিলিত হইল।