পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস S ●。 মাতা গৃহ থেকে বিদায় করে যে কি স্বৰ্গসুখ লাভ করেন তা আমি ভেবে পাই ন। পুত্রের বিবাহে৭ অনেক স্থলে অকারণ ব্যস্ততা দেখা যায়। পুত্রের বিদ্যাশিক্ষা, তার স্বাধীন বৃত্তি উপার্জনের উপায় করে দেওয়া—এ সকল গুরুতর কৰ্ত্তব্য ছেড়ে সৰ্ব্বাগ্রে তার বিবাহ দিতেই গুরুজনেরা ব্যস্ত। লোম্বায়ে বালক বালিকার বিবাহ পুতুলে পুতুলে বিয়ের মতন। একজন গাইকওয়াড় ছিলেন তিনি পায়রার বিয়ে দিতে বড় ভাল বাসতেন তার সভাসজ্জন নিমন্ত্রণ করে খুব ধূমধামে কপোত কপোতার বিবাহোৎসব অনুষ্ঠান করতেন-- এই সব বালক বালিকার বিবাহ অনেকটা সেইরূপ । ওদেশে দশ বার বৎসরের বালক সাত আট বৎসরের বালিকা—এইরূপ দম্পতিকে অনেকসময় উদ্বাহ-শৃঙ্খলে বদ্ধ হতে দেখা যায়। মেয়ে পুরুষের বিবাহযোগ্য বয়স বাড়িয়ে না দিলে সমাজের কল্যাণ নেই। পূর্ণ বয়সের পূৰ্ব্বে বিবাহ দেওয়াতে স্ত্রী পুরুষ উভয় পক্ষেরই অনিষ্ট, সন্ততির পক্ষেও অনর্থকর। এইরূপ বাল্য-বিবাহ হইতে হিন্দু সমাজের যে কত অমর্থোৎপত্তি হইতেছে বলা যায় না। বিপন্ন বালপ্রস্থতি, নিৰ্ব্বীৰ্য্য সস্তান সস্তুতি, শিক্ষার ব্যাঘাত, দারিদ্র্য, অকল বাৰ্দ্ধক্য, অকাল মৃত্যু— জাতীয় অবনতির এই সমস্ত লক্ষণ দেখেও আমাদের চৈতন্ত হয় না – আশ্চৰ্য্য ! অকালপক্ক ফল যেমন সুস্বাদু হয় না, অকালপ্রস্থত সন্তানও সেইরূপ নিৰ্ব্বীৰ্য্য রুগ্ন ক্ষিঃ হইয়া ভূতলে অবতীর্ণ হয়। কেহ বলিতে পারেন যে গ্রীষ্মপ্রধান দেশে মানুষের শরীর মনের শক্তিসকল অকালে পরিপক্ক হয় এইজন্তে তরুণ বয়সে বিবাহ দেওয়া অবশ্যক হয়ে পড়ে। কিন্তু তার ত একটা সীমা প্রকৃতিতে নির্দিষ্ট আছে। এক্ষণে জিজ্ঞাস্ত এই যে, প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন বয়সে স্ত্রী পুরুষের বিবাহ দেওয়া উচিত ? পাঠকের মধ্যে অনেকে অবগত আছেন, ৰিবাহের নুতন আইন প্রচলিত হবার পূর্বে মহাত্মা কেশবচন্দ্র সেন এই বিষয়ে কতকগুলি দেশীয় ও মুরোপীয় ডাক্তারের মত জিজ্ঞাস করেন--ডাক্তার নৰ্ম্মান, ডাক্তার ফেরার, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার, ডাক্তার চন্দ্র, ডাক্তার আত্মারাম । পাণ্ডুরঙ প্রভৃতি বিচক্ষণ ভাক্তারের বিবাহের বয়স সম্বন্ধে সেই সময়ে আপন আপন অভিপ্রায় প্রকাশ করেন। এ দেশের আবহাওয়ার গুণাগুণ, দেশীয়দের শরীর প্রকৃত্তি এই সকল বিষয় বিচার করে তারা বলেছেন যে পুরুষের ২০ বৎসরের নীচে, মেয়ের ১৬ কিম্বা ১৭ বৎসরের আগে বিবাহ দেওয়া উচিত নয়। ১৬ জন ডাক্তারের মত নেওয়া যায় তার মধ্যে কেবল একজন (ডাক্তার চন্দ্র ) এ দেশে স্ত্রীলোকের বিবাহের বয়স অনুন ১৪ বৎসর নির্দেশ করেন। অন্যেরা ১৪ বৎসরেরও অধিক। এই সকল পণ্ডিতের মত এই যে স্ত্রীলোক স্ত্রীধৰ্ম্ম প্রাপ্ত হলেই সে সস্তান ধারণের উপযুক্ত হয়