পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস S 84 অনেক শিথিল হয়ে আসছে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। জাতীয় শিকড়ের চেয়ে ঘটনার স্রোত বলবত্তব, তাই দেখা যায় তার ভাঙ্গন-দশা আরম্ভ হয়েছে। শৌচাশৌচ বিচার, ভিন্ন জাতির মধ্যে পরস্পর প্রতিভোজন ইত্যাদি অনেক বিচারে আমরা পূৰ্ব্বাপেক্ষ কুসংস্কারবর্জিত স্বীকার করতেই হবে। বিচারের সঙ্গে সঙ্গে আচারের পরিবর্তন অগুস্তাব। কতকগুলি বাহিরের ঘটনাও এই পরিবর্তনের অমুকুল। আমাদের জাতীয় কঙ্গে স তার চিরন্তন মন্তব্যগুলি বৎসরান্তে একবার আবৃত্তি করে আমাদের পোলিটিকাল উন্নতি কতদূর সাধন করেছেন বলতে পারি না কিন্তু সেই একক্ষেত্রে নানাজাতির একস্থত্রে মেলামেশার অবশ্য একটা উপকারিত আছে । তার ফলে হোক বা অন্ত যে কারণেই হোক, অন্ত্যজ জাতি-সমস্তার প্রতি আমাদের তবিদ্য যুবকদের মন পড়েছে, এ একটা শুভলক্ষণ বলতে হবে। আমরা আমাদের রাজপুরুষদের সমকক্ষ হবার জন্তে চীৎকার করে আকাশ ফাটিয়ে তুলছি কিন্তু আমাদের ভাইদের মধ্যে যে অসংখ্য লোক হিন্দুসমাজের পদদলিত ঘৃণিত ত্যাজ্য পুত্র হয়ে পড়েছে তাদের প্রতি একবাব ক্ৰক্ষেপও করি না, একি সামান্ত লাঞ্ছনার বিষয় ? এই হান জাতিব উদ্ধাবের জন্তে আর্য্যসমাজের উদ্যমশীলতা দেখে অশ্বাস হচ্ছে যে এখনো আমাদের প্রাণ আছে ; এই সাধু দৃষ্টান্তে যদি সমগ্র হিন্দুসমাজ জাগরিত হয়ে এই সকল দীনহীন পতিত সন্তানদের স্বীয় ক্রেড়ে স্থানদান করতে প্রস্তুত হন, তবেই দেশেব মঙ্গল ; নতুবা বলতে হবে আমাদের সমাজ আত্মশ্লাঘার করে আত্মঘাতী হতে চলেছেন, তার অধঃপাতের আর বিলম্ব নেই। আমি যে জাতির হয়ে ওকালতি করছি তাদের স্থান হিন্দুসমাজের অধঃস্তরে—এর উপরের স্তর ও নানাকারণে বিলোড়িত হচ্ছে দেখা যায়। শূদ্রেরা আপনাদের মধ্যে উচ্চতর আসন অধিকার করতে ব্যগ্র, কায়স্থ কুল ক্ষত্ৰিয়বংশীয় বলে আপনাদের পরিচয় দিয়ে উপবীত ধারণে তৎপর, কেহই হীনতা-পঙ্কে পড়ে থাকতে রাজী নয়। কালচক্রের পরিবর্তনে আমাদের সমাজে যে কত পরিবর্তন হচ্ছে তা আমরা অনেকে চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি। আমাদের মধ্যে র্যারা অপেক্ষাকত বয়োবৃদ্ধ তারা একবাব আপনাদের বাল্যকালের কথা স্মবণ করে দেখুন, সেকাল আর একালের প্রভেদ বুঝতে পারবেন। আমার একটা সহজ দৃষ্টান্ত মনে হচ্ছে। আমরা সকলেষ্ট জানি, এককালে কুলীন ব্রাহ্মণদের মধ্যে বহু-বিবাহ প্রথা পূর্ণমাত্রায় প্রচলিত ছিল । তারা বহুপত্নী নিয়ে কেমন দিব্য আরামে ঘর করতেন, পালায় পালায় এক এক পত্নীগুহে গিয়ে কি সহজ উপায়ে অর্থে পার্জন করতেন। কুলীন মেয়েদের কি তুর্ভাগ্য ! কারো করে, যোগ্য পাত্রের অভাবে চিরজীবন হয়ত আইবড় অবস্থায়