পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२४२ আমার বোম্বাই প্রবাস অস্তান্ত কুরীতির উচ্ছেদ সাধন উদ্দেশ্যে এক সভার স্বষ্টি হইল, তাহার সভ্যগণ ফ্রামেসনদের দ্যায় গোপনে কাৰ্য্যারম্ভ করিলেন । এই সভার নাম পরমহংস সভা । * পরমহংস সভা রোম্বাই অঞ্চলে ধৰ্ম্ম ও সমাজ-সংস্কারের চেষ্ট সময়ে সময়ে যাহা প্রবৰ্ত্তিত হয় তাঙ্গার শিরোভাগে পরমহংস সভা ধরা যাইতে পারে। ১৮৪৯ সালে এই সভা স্থাপিত হয়। হংস যেমন জলীয় ভাগ ফেলিয়া দিয়া দুধ বাছিয় লয়, সেইরূপ সমাজের মন্দের ভাগ পরিত্যাগ করিয়া ভালটা বাছিয়া গ্রহণ করা এই সভার উদ্দেশ্য ; জন্মিয়াই হিন্দু সমাজের উপয় বাণবর্ষণ ইহার প্রথম উদ্যম। বাহিরের লোকের দৃষ্টিবহিভূত বিজনস্থানে অকুতোভয়ে সম্মিলিত হইয়া কাজ করিতে পারেন তাহার উপযোগী স্থান চাই— অনেক খুজিয়া সভ্যেরা একটা বাড়ী স্থির করিলেন। বাড়ীর কৰ্ত্ত তাহদের দিতে প্রস্তুত কিন্তু একটি ভাড়াটে ব্রাহ্মণ তাহাতে বাস করিতেন তিনি আততায়ীদের দুরভিসন্ধি সন্দেহ করিয়া ছাড়িয়া যাইতে কোন মতে সম্মত হইলেন না। অনেক বাদামুবাদের পর বাসন্দা এক ফন্দী করিলেন। তিনি তাল চাবি দিয়া ঘর বন্ধ করিয়া সরিয়া পড়িলেন। ভাবিলেন র্তাহার দেব দেবীর বিগ্রহ সকল ঘরের মধ্যে সুরক্ষিত। পরমংসগণ তাহাতে নিবারিত হওয়া দূরে থাকুক তাহদের বল ও সাহসের পরিচয় দিবার অবসর পাইলেন । সেই লোকটির অবর্তমানে তালা চাবি ভাঙ্গিয় প্রতিমাগুলি এক কোণে সরাইয়া স্বচ্ছন্দে ঘর দখল করিয়া লইলেন। এখানে কিন্তু তাহারা অধিক দিন রাজত্ব করেন নাই, গিরগামের এক অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট গৃহে শীঘ্ৰ উঠিয়া যান। প্রতি সপ্তাহে একদিন সন্ধ্যার সময় অধিবেশন হইত। ঈশ্বর প্রার্থনার পর কৰ্ম্মারম্ভ, এই যা ধৰ্ম্মের সহিত র্তাহীদের সম্পর্ক । আর সকল বিষয়ে সভার উদ্দেশু সামাজিক । কোন ব্যক্তি সভ্যপদে দীক্ষিত হইবার পূৰ্ব্বে তাহার প্রতিজ্ঞ করিতে হুইত যে তিনি জাতিভেদ স্বীকার করেন না, পরে পাউরুটির টুকরা মুখে করিয়া আপনার অকৃত্রিম বিশ্বাসের পরিচয় দিতে হুইত, তদনন্তর সভার রেজিষ্টরে নাম স্বাক্ষর করিয়া সভ্য শ্রেণীর মধ্যে গণ্য হইতেন। প্রথম কয়েক বৎসর মুসলমানের হাতে জলগ্ৰহণ করিবারও বিধান ছিল। দাদোৰা পাণ্ডুরঙ রাম বালকৃষ্ণ এইরূপ কতকগুলি লোকের যত্ন ও উৎসাহে ক্রমে সভ্যদল বৃদ্ধি হইতে লাগিল । পুণা, আহমদনগর, খানদেশ, বেলগাম প্রভৃতি মফস্বলের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরমহংস সভার শাখা প্রশাখা বিস্তৃত হইল। সভ্য সংখ্যা কত ঠিক নির্ণয় করা অসাধ্য তথাপি সভার শ্ৰীবৃদ্ধিকালে অনুন পাচ শত আন্দাজ বলা যাইতে পারে।