পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস * ९ ¢¢ স্তায় আর কতকগুলি সজ্জনের প্রযত্নে ১৮৬৭ সালে এই সমাজ স্থাপিত হয়। জাতিভেদ বাল্যবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক কু-রীতির উচ্ছেদ-সাধন মানসে সমাজ কাৰ্য্যারম্ভ করেন। পরে সভ্যেরা বিবেচনা করিলেন সামাজিক বিধানে সাক্ষাৎ হস্ত ক্ষেপ করায় কোন ফল নাই। যেখানে সন্মুখ যুদ্ধে জয়লাভের আশা নাই সেখানে আক্রমণের অন্ততর কৌশল অবলম্বন করা কৰ্ত্তব্য । ধৰ্ম্ম-সংস্কারের উপর দাড়াইয়া সমাজ-সংস্কার সহজসাধ্য, এই বিবেচনায় পৌত্তলিকতা পরিহারপূৰ্ব্বক একেশ্বরবাদ প্রচার সমাজের মুখ্য উদ্দেশু বলিয়া স্থিরীকৃত হইল। ইতিপূৰ্ব্বে মহাত্মা কেশবচন্দ্র সেন দুই একবার বোম্বাই আসিয়া বক্তৃতাদি দ্বারা লোকের মন উত্তেজিত করিয়া যান। ক্ষেত্র প্রস্তুত, উপযুক্ত সময়েই বীজ নিক্ষিপ্ত হইল। ১৮৬৭ সালে সমাজের প্রথম অধিবেশন হয় । ১৮৭২ সালে উহাব মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ও ভাই প্রতাপচন্দ্র মজুমদার আসিয়া ঐ কাৰ্য্য সুসম্পন্ন করেন। স্ববিখ্যাত মহাদেব গোবিন্দ রাণাডে সমাজের প্রথম সম্পাদক-পদ গ্রহণ করেন, পরে বামন তাবাজী মোদক সেই পদে নিযুক্ত হন। সমাজের প্রথম অবস্থায় শ্রদ্ধেয় প্রতাপচন্দ্র মজুমদার বক্তৃতা ও উপদেশাদি দ্বারা তাহার উন্নতি সাধনে বিশেষ সাহায্য করিয়াছিলেন । ১৮৭৪ হইতে ঐ সমাজ বিবিধ সৎকার্য্যের অনুষ্ঠান আরম্ভ কবেন । সভ্যগণের যত্ন ও উৎসাহে স্ত্রীশিক্ষা বিস্তার, শ্রমজীবিদের জন্ত বিদ্যালয় স্থাপন এবং সাপ্তাহিক পত্রিক প্রকাশ, এই কয়েকটি শুভকাৰ্য্য-অনুষ্ঠানের সূত্রপাত হয় । e ১৮৮২ সালে নারায়ণ গণেশ চন্দবারকর + ( এইক্ষণে ঘিনি নাইট উপাধিধারী বোম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি ) প্রার্থনা-সমাজের সভ্য শ্রেণীভূক্ত হন। বর্তমানকালে তিনিই সমাজের অধ্যক্ষ ও প্রধান আচাৰ্য্য। তাহার সুযোগ্য নেতৃত্বগুণে প্রার্থনা-সমাজ ধীরে ধীরে উন্নতির পথে অগ্রসর হইতেছে । তাহার কার্য্য-প্রণালী রক্ষণশীল ও উন্নতিশীল উভয় পক্ষেরই হৃদয়গ্রাহী । আদি ব্রাহ্মসমাজের সহিত জষ্টিশ চন্দবারকরের কতক বিষয়ে সহানুভূতি দেখা যায়, কিন্তু আদি সমাজ যেমন সামাজিক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিশ্চেষ্ট, তিনি সেরূপ নহেন। সমাজ-সংস্কার সাধনে তাহার যথেষ্ট উৎসাহ এবং অনুরাগ আছে। হিন্দুশাস্ত্রের প্রতি র্তাহার প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ; সেই সকল শাস্ত্র হইতে যাহা কিছু সস্থাপদেশ ও সুশিক্ষা লাভ করা যায় তাহা গ্রহণ ও প্রচার করিতে তিনি সৰ্ব্বদাই তৎপর। অথচ আবার এই নবযুগে আমাদের এই জাতিবিমৰ্দ্দিত সমাজ-সংস্করণের প্রয়োজনীয়তা তিনি সম্যক্ অনুভব করিতেছেন। বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মের যে সকল অংশ এ কালের অনুপযোগী—যাহা জাতীয় একতাবন্ধনের বিরোধী তাহ সংশোধন করা হয় এই তাছার মনোগত অভিপ্রায়,

  • ইনি সম্প্রতি ইন্দেরের দেওয়ান পদে নিযুক্ত হইয়াছেন।