পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


36ッ অামার বোম্বাই প্রবাস স্থানে ভজন-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, তাহাতে সাপ্তাহিক উপাসনা ও সময়ে সময়ে বক্তৃতাদি হইয়া থাকে। বিদ্যালয়গুলিতে ধৰ্ম্ম ও নীতিশিক্ষার ব্যবস্থা করা হইতেছে। গত বর্ষে পুণায় এই সকল জাতির একটি প্রাদেশিক সমিতি উল্লেখযোগ্য । ইহাতে ১৭ বিভিন্ন মারাঠা প্রদেশ হইতে অস্ত্যজ-জাতির পঞ্চশাখাভূক্ত সবগুদ্ধ ৩০০ লোক সমবেত হইয়া এই সভার কাৰ্য্যে উৎসাহপূর্বক যোগদান করেন। দুই দিন এই সভার অধিবেশন হয়। এই উপলক্ষে পুণায় নারীমণ্ডলীর যে একটি সভা হয়, শ্ৰীমতী রাণাডে-পত্নী তাহার অধ্যক্ষত করেন। তথা অস্ত্যজ-জাতীয় প্রায় দুই শত স্ত্রীলোক এবং শতাধিক উচ্চকুল-মহিলা উপস্থিত ছিলেন । এই সমবেত বিমিশ্রবর্ণ নারীকুলের পরস্পর সম্ভাবে মেলা মেশা ও মিষ্টালাপ- ইহা পুণা-সমাজে এক অভূতপূৰ্ব্ব ঘটনা। সাতারায় এইরূপ আর একটি সমিতি আহবান করিবার প্রস্তাব হইতেছে ও সেখানকার প্রার্থনা-সমাজের সভ্যগণ এ বিষয়ের প্রধান উদ্যোগী । এই সভার আর্থিক অবস্থা সম্বন্ধে বক্তব্য এই যে সৰ্ব্বসমেত ৮৫০ ০০ টাকার প্রয়োজন ; তাহার মধ্যে মহারাজা তুকোজী হোলকর প্রাতঃস্মরণীয় অহল্যাবাই হোলকরের নামে পুণায় একটি অস্ত্যজ-অtশ্রম প্রতিষ্ঠার জন্ত ২০,০০০ টাকা দান করিয়াছেন। অতিরিক্ত যে টাকার প্রয়োজন বোম্বায়ের ধনকুবেরগণ স্বীয় ধন-কোষ মুক্ত করিয়া সে অভাব মোচন করিবেন, তাহাতে সন্দেহ মাত্র নাই। প্রার্থনা-সমাজ যদিও ‘ব্রাহ্ম’ নাম গ্রহণে অনিচ্ছুক, তথাপি ইহার মত ও বিশ্বাস ব্রাহ্ম-ধৰ্ম্মেরই অনুযায়ী। সমাজের কোন দীক্ষিত উপাচাৰ্য্য নাই, সভ্যদের মধ্যে যাহার সুবক্তা ও ধৰ্ম্মোপদেশে সক্ষম র্তাহারাই অবকাশমতে আচার্য্যের আসন গ্রহণ করিয়া উপাসনা-কাৰ্য্য সম্পন্ন করেন। ব্রাহ্ম-সমাজের শাখা প্রশাখা প্রেসিডেন্সির স্থানে স্থানে বিস্তৃত দেখিয়া আমার বড়ই আহলাদ হইত। আহমদাবাদ যেখানে আমি প্রথমে যাই, সেখানকার সমাজের অধ্যক্ষ ছিলেন ভোলানাথ সারাভাই । মহীপত রাম রূপরাম তাহার সহযোগী । মহীপত রাম ইতিপূৰ্ব্বে ইংলণ্ড যাত্রা করেন, বিলাত হইতে প্রত্যাগত হইয় তিনি হিন্দুসমাজ হইতে যৎপরোনাস্তি উৎপীড়ন সহ করিতেছিলেন ; ভোলানাথ ভাই তাহার পক্ষ গ্রহণ করিয়া এই সকল অত্যাচার নিবারণে সাহায্য করেন। এই দুই বন্ধু মিলিয়া সমাজের কার্য্যারম্ভ করেন এবং অন্তান্ত কতিপয় উৎসাহী ব্রাহ্ম সেই কাৰ্য্যে যোগ দেন। আমি যখন আহমদাবাদে ছিলাম, দেখি ভোলানাথ ভায়ের যত্নে ও উৎসাহে আহমদাবাদ প্রার্থন সমাজ খুব জমকিয়া উঠিয়াছে। আমিও তাহদের সাপ্তাহিক উপাসনায় যোগদান করিয়া র্তাহাদের উৎসাহবৰ্দ্ধনে সচেষ্ট ছিলাম। উপাসনার সময় ভোলানাথ প্রণীত প্রার্থনা