পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२७९ আমার বোম্বাই প্রবাস বোম্বাই ও বাঙ্গল দেশ আমাকে অনেকে জিজ্ঞাস করেন আমি বঙ্গল দেশ ছাড়িয়া বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে আমার কৰ্ম্মস্থান কেন পছন্দ করিলাম ? তাহাব উত্তর এই যে বঙ্গদেশ নিৰ্ব্বাচনের অধিকার আমার আদেী ছিল না। পরীক্ষেত্তীর্ণ সিবিলিয়ানদের মধ্যে যে শ্রেণীতে যাহার নাম সেই অনুসারে তাহার নির্বাচন ক্ষমতা ; আমার নাম যেখানে পড়িয়াছিল তাহাতে আমার বাঙ্গল দেশ লইবার অধিকার হইল না । মন্দ্রাজ ও বোম্বাই এই ফুয়ের মধ্যে বাছিয়া লওয়া, এইটুকু আমার অধিকারের সীমা, এই দুয়ের মধ্যে আমি বোম্বাই বরণ করিলাম । তাহাতে আমার কোন দুঃখ নাই। আমার বিশ্বাস যে বাঙ্গল দেশের তুলনায় বোম্বায়ের আবহাওয়া উৎকৃষ্ট । গ্রীষ্মকালে দুই তিন মাস যা গরম ভোগ করিতে হয় তাহ ধৰ্ত্তব্য নহে। বিশেষতঃ দক্ষিণাত্য যেখানে আমি অনেক বৎসর ধরিয়া বাস করিয়াছি সেখানে সকল ঋতুই উপভোগ্য। বর্ষার ত কথাই নাই । গ্রীষ্মকালও কষ্টদায়ক নহে । তা ছাড়া বোম্বাই মফস্বল কোর্টের গ্রীষ্মাবকাশের যে নিয়ম তাহাতে অন্ততঃ ছয় সপ্তাহকাল গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ হইতে অনায়াসে দুরে থাক যায়। বোম্বায়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে স্বাস্থ্যনিবাস বলিয়া ধাৰ্য্য । শীতের সময় নিজ বোম্বাই সহর, বর্ষায় পুণ, গ্রীষ্মে মহাবলেশ্বর—গবর্ণমেণ্টের কর্তৃপুরুষের এই তিন স্থানে পালায় পালায় অধিবেশন করেন। আমরা অনেক সময় গ্রীষ্মকালে মহাবলেশ্বর পাহাড়ের আশ্রয় লইতাম । সে অতি মনোরম স্থান । পশ্চিমঘাট শ্রেণীর মধ্যে অনেক মুশোভন পাহাড় দৃষ্ট হয় কিন্তু মহাবলেশ্বর সকলের সেরা । এই পৰ্ব্বতের শিখর পঞ্চনদীর আকরস্থান । তথায় মহাবলেশ্বর নামে শিব মন্দির আছে, তাহ হইতেই এই পাহাড় স্বনাম গ্রহণ করিয়াছে। এই পাহাড় বোম্বাই প্রেসিডেন্সির বিহার ভূমি, ইহা ৫০০০ ফাট উচ্চ বৈ নয় । আসামের শৈলনিবাস সিলঙ যত উচু এও তার সমান উচু ; সম্ভবতঃ এই দুই পাহাড়ের শোভা-সৌন্দৰ্য্যও এক প্রকার। আমি নিজে সিলঙ দেখি নাই কিন্তু সে দিকে বেড়াইতে গিয়া আমার কন্যা সিলঙের যা বর্ণনা করিয়াছেন তা মহাবলেশ্বরেও ঠিক খাটে। তিনি লিখিতেছেন, “ছোট খাটোর মধ্যে সবই ৰেশ নিটুনটু ফিট্‌ফাটু যেন বড় মানুষের বাগান সাজিয়ে রেখেছে। প্রকৃতির বিরাট বা দুৰ্দ্ধান্ত ভাব নেই, এখানে তিনি গৃহিণীরূপে মানুষের মত ঘরকন্ন সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছেন। দৃষ্ঠের খুব গাম্ভীৰ্য্য না থাক সৌন্দৰ্য্য যথেষ্ট আছে। লাল লাল রাস্ত বেড়াবার বেশ সুবিধা । পাচ হাজার ফাট উচু সুতরাং বেশী ঠাণ্ডাও নয়।” মহাবলেশ্বরের ভাবও অবিকল এইরূপ । দেখিতে যেমন সুন্দর, বেড়াইবার স্থানও