পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


§ 9 আমার বাল্যকথা এই রকমে সীতারে আমবা খুব পরিপক্ক হয়ে উঠেছিলুম। বাবামশায়ের সঙ্গে যখন গঙ্গায় বাড়াতে যেভুম তখন সীতার দিয়ে স্বানে আমার বিশেষ তামোদ হ’ত। আমি সীতার দিতে দিতে অনেক দূব পর্য্যন্ত চলে যে তুম, বাবামশায় তাতে কোন আপত্তি করতেন না, বোধ করি যদিও এক একবার তাব মনটা অস্থিৰ হয়ে উঠত। বড়দাদা সীতারে সর্বাপেক্ষ মজবুৎ ছিলেন। তবে রেথাক্ষরের মত সীতারেও তিনি যে কত বকম কারদান করতেন তার ঠিক নেই। যখন গঙ্গার ধাবের বাগানে থাকতেন তখন মাঝে মাঝে সীতার দিয়ে গঙ্গাই পাব হ’তেন ; আর সকলে ভয়ে অস্থিব হয়ে পড়ত। হীরাসিং বলে এক পালওয়ানের কাছে আমব কুস্তী শিখতুম, তাতে আমার খুব উৎসাহ ছিল। ডনের পর ডন, বড় বড় মুগুব ভাজা—তাব কত রকম কুস্তার দাও, মার পেচ শিক্ষা । আমি কুন্তীতে একজন ওস্তাদ হয়ে উঠেছিলুম। কেউ আমার সঙ্গে সহজে পেরে উঠত না । হীবাসিংহেব চালাদের মধ্যে অনেকে আমার সমবয়স্ক ছিল, তাদের সঙ্গে আমার কুস্তী হ’ত—তাদের মধ্যে যারা বড় তাদেরও আমার কাছে হীর মানতে হ’ত ; সহজে কেউ আমাকে ধরাশায়ী করতে পারত না । অথচ আমার বল যে বেশী তা নয়—এই কুন্তীতে শুধু বলীর জয় তা নয়, ছলে বলে কৌশলে যে কোন প্রকারে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে পারলেই জিৎ। একদিন কুন্তী করতে করতে বেকায়দায় পড়ে আমার হাত মুচকে গিয়েছিল। কাউকে কিছু না বলে সেট ঢেকে রাখবার চেষ্টা করা গেল। আমার ওস্তাদের টোটক ওষুধে সেবে যাবে এই ভেবে ছোলা ভিজিয়ে হাত বেঁধে রাখলুম ; কিন্তু তাতে কোন ফল হ’ল না । শেষে ডাক্তার সাহেবের রীতিমত চিকিৎসায় তবে আবাম হ’ল । তখন থেকে সেবারকার মত আমার কুস্তী বন্ধ। এই সব বিষয়ে আমি অল্পেতে সন্তুষ্ট থাকতুম না, সবাই বলত “য করবে সব তাতেই বাড়াবাড়ি –এ তোমার কেমন স্বভাব।” তার ফল ভোগও করতে হ’ত—হাত পা ভাঙ্গ, মাথা ভাঙ্গা, কত বিপত্তি যে আমার উপর দিয়ে গিয়েছে তার অন্ত নেই। অথচ এখনো পৰ্য্যন্ত ত বেঁচে আছি। এত প্রকার বিস্তু বিপত্তির মধ্যে শিশুজীবন যে কি করে রক্ষা পায়, বিধাতার এ এক আশ্চৰ্য্য বিধান । সে যাহ। হোক, একথা বলা যেতে পারে ‘কোন বিষয়েরই বাড়াবাড়ি ভাল নয়’— এটা বড় ঠিক কথা। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে অনেক সময় উন্ট উৎপত্তিই হয়। তার সাক্ষী আমাদের ওস্তাদ হীরাসিং । তার কুস্তীর বিরাম নেই, যখনই দেখি কোন না কোন কঠোর ব্যায়ামে নিযুক্ত ; কিন্তু তার শরীর বেশী দিন টিকল না, শীঘ্রই ভেঙ্গে পড়ল। শুনেছি এই সব পালোয়ানের দীর্ঘজীবী হয় না। শরীর