পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


जधा भां ब्र बां ज1 क थों @ ዓሉ বাড়ীর দালানে গুরুমশায়ের কাছে ক খ শিখতে আসত। গুরুমশায়ের কাছে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষায় হাতে খড়ি । সেই উগ্ৰচণ্ড গুরুমশায় বেত্ৰহস্তে শেখাতে বসেছেন, কখনো বা সে বেত র্তার কোন ছাত্রপৃষ্ঠে চালিত হচ্ছে—সে চিত্ৰ মন থেকে কখনো যাবে না। আমরা গুরুমশায়কে কি মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত মনে করতুমি ঠিক যেন Goldsmith-এর সেই গ্ৰাম্য গুরুমশায় And still they gazed and still The wonder grew That one small head could Carry all he knew. অবাক হইয়া দেখে, না জানি কি করে অত বিদ্যা ওই ক্ষুদ্র মাথার ভিতরে। আমরা গুরুমশায়ের কাছে ক খ, বানান নামতী, কড়াঙ্কে, ষটকে -এই সব শিখাতুম, তাছাড়া চিঠিপত্র লেখা অভ্যাস করতুম। যত ওচা ফ্যালা, জিনিষ। মোড়বার মত ব্ৰাউন কাগজ আনা হত, -শ্ৰীরামপুরের সাদা কাগজ যেদিন আসত। খুব ভাগ্যি মনে করতুম। এই কাগজের উপর বাঙলা কলম দিয়ে আঁচড়কাটাসেই আমাদের পত্ৰলেখা। যতদূর মনে আছে পত্রের দুই পাঠ ছিল -‘সেবক শ্ৰী’ আর ‘আজ্ঞাকারী শ্ৰী’-দিনের পর দিন বদলে বদলে এই দুই পাঠ লেখা হচ্চে। এখন দেখতে পাই বাঙলা চিঠিতে পাঠ লেখা বড় সহজ ব্যাপার নয়। বয়োজ্যেষ্ঠ গুরুজন, স্নেহের সম্পৰ্কীয় কনিষ্ঠ ছোট বড় আত্মীয় স্বজন বন্ধু, অপরিচিত দূরের লোক, formal informal !-বাংলায় কাকে কি পাঠ, ও কোন সময় কি পাঠ লিখতে হয় সে এক বিষম সমস্যা। গুরুমশায় এই বিষয় আমাদের মনোযোগ দিয়ে শেখালে ভবিষ্যতে অনেক কাজ দেখত । তবে ওরূপ মুর্থ পণ্ডিতের কাছে বেশী কিছু প্ৰত্যাশা করা অন্যায়, আমরা ঐ গুরুর কাছে লেখাপড়া বেশী দূর না এগিয়ে থাকি-নিদেন গোড়া পত্তন সেই ।